‘বোর্ড অব পিস’-এর স্থায়ী আসনের জন্য দেশগুলোর কাছে ১ বিলিয়ন ডলার দাবি ট্রাম্পের
'বোর্ড অব পিস'-এ টিকে থাকতে হলে দেশগুলোকে গুনতে হবে ১ বিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প প্রশাসন এমনটাই চাইছে। শনিবার রাতে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রস্তাবিত গ্রুপটির একটি খসড়া সনদের বরাত দিয়ে তারা এ খবর দিয়েছে।
'বোর্ড অব পিস' হলো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এর অনুমোদন দিয়েছিল। মূলত ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধবিরতি তদারকি করার জন্যই এই বোর্ড গঠন করা হয়।
ব্লুমবার্গের দেখা ওই খসড়া অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই হতে যাচ্ছেন এই গ্রুপের প্রথম চেয়ারম্যান। কোন কোন দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হবে, তা তিনি নিজেই ঠিক করবেন। যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষমতা থাকবে চেয়ারম্যানের হাতেই।
খসড়া দলিলে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলো তিন বছরের জন্য এই বোর্ডে দায়িত্ব পালন করবে। তবে সনদ চালু হওয়ার প্রথম বছরের মধ্যে যদি কেউ নগদ ১ বিলিয়ন ডলার দেয়, তবে তারা স্থায়ী আসন নিশ্চিত করতে পারবে।
সিএনবিসিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, 'বোর্ড অব পিস'-এ যোগ দিতে কোনো খরচ নেই। তবে ১ বিলিয়ন ডলার দিলে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়া যাবে। এই গ্রুপের মূল কাজ হলো 'পুরো গাজা পুনর্নির্মাণ করা'।
তিনি জানান, সংগৃহীত তহবিলের 'প্রায় প্রতিটি ডলার' এই কাজেই ব্যয় করা হবে। কর্মকর্তা আরও বলেন, এই গ্রুপে 'চড়া বেতন বা বিশাল প্রশাসনিক জট' থাকবে না।
তবে সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে সংগ্রহ করা এই বিপুল অর্থ কোথায় রাখা হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলি। তারা গাজা বিষয়ক 'বোর্ড অব পিস'-এ যোগ দেবেন, যা মূল বোর্ডেরই একটি অংশ হবে।
এপি নিউজ রবিবার জানিয়েছে, আরও বেশ কয়েকটি দেশ আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই তালিকায় আছে হাঙ্গেরি, ভারত, জর্ডান, গ্রিস, সাইপ্রাস এবং পাকিস্তান।
এর আগে তুরস্ক, মিসর, প্যারাগুয়ে এবং আলবেনিয়াকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র পুরো তালিকা প্রকাশ করতে পারে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাম্পের নেতৃত্বে গ্রুপটি একটি প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ডও গঠন করেছে। এই বোর্ড গাজার স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তদারকি করবে।
নির্বাহী বোর্ডে যাদের রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের সিইও মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং মার্কিন ডেপুটি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েলও এই বোর্ডে আছেন।
