গাজায় সহায়তা সংস্থাগুলোর ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই রাফাহ সীমান্ত পরিদর্শনে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি
অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার সাবেক বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি মিশরে মানবিক সফরের অংশ হিসেবে শুক্রবার রাফাহ সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন। জোলির প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েল যখন গাজা উপত্যকায় কর্মরত ডজন খানেক সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে, ঠিক সেই সময়েই জোলি এ সফরে এলেন।
এক বিবৃতিতে জোলি বলেন, "আমি মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর সাথে কথা বলেছি যারা গাজায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি একটি বিশাল গুদামঘর ঘুরে দেখেছি যা গাজায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এমন সব পণ্যে ঠাসা ছিল, যার বেশিরভাগই চিকিৎসা সরঞ্জাম।"
এই সপ্তাহের শুরুর দিকে ইসরায়েল জানায়, যেসব আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা তাদের নিবন্ধন নবায়ন করেনি, তারা তাদের কার্যক্রম স্থগিত করবে। এই নতুন নিয়মের আওতায় গাজায় কর্মরত সংস্থাগুলোকে তাদের কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সহায়তা সংস্থাগুলো তাদের কর্মীদের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে ওই শর্তাবলির (ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান) বিষয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইসরায়েল এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নিয়েছে যখন ১০টি দেশ সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, গাজার মানবিক পরিস্থিতির 'নতুন করে অবনতি' ঘটছে এবং এই অবরুদ্ধ অঞ্চলের অবস্থা এখনও 'ভয়াবহ' রয়ে গেছে।
ইসরায়েল বলেছে, তাদের এই নিবন্ধন সংক্রান্ত নিয়মের উদ্দেশ্য হলো হামাস যেন আন্তর্জাতিক ত্রাণের অপব্যবহার করতে না পারে। তবে জাতিসংঘ এবং সহায়তা সংস্থাগুলো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন সরকারের একটি পর্যালোচনায় হামাস কর্তৃক বড় ধরনের ত্রাণ চুরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যদিও ইসরায়েল এবং মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট আগে এমন দাবি করেছিল।"
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় এখন প্রচণ্ড শীত। সেখানে ভারি বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় মানবেতর জীবনযাত্রা আরও শোচনীয় হয়ে পড়েছে। গাজার হামাস-পরিচালিত সরকারি মিডিয়া অফিসের (জিএমও) তথ্য অনুযায়ী, প্রচণ্ড বৃষ্টি এবং ঝড়ো বাতাসে ফিলিস্তিনিদের ব্যবহার করা নড়বড়ে ও জলমগ্ন তাবুগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থেকে বাঁচতে আশ্রয় নেওয়া অন্তত ২০ জন মানুষ ঘরবাড়ি ও ভবন ধসে নিহত হয়েছেন।
সফরকালে জোলি ইজিপশিয়ান রেড ক্রিসেন্ট (মিশরীয় রেড ক্রিসেন্ট) এবং অন্যান্য স্থানীয় সংগঠনের ত্রাণকর্মীদের সাথে দেখা করেন এবং গাজায় কীভাবে অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানো যায় তা নিয়ে আলোচনা করেন।
এক বিবৃতিতে জোলি বলেন, 'এখন কী করা প্রয়োজন তা স্পষ্ট: যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকতে হবে এবং ত্রাণ পৌঁছানোর পথ নিরাপদ ও টেকসই করতে হবে। এছাড়া ত্রাণ, জ্বালানি এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম যাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণে দ্রুত ও নিয়মিত পৌঁছাতে পারে, সেজন্য এই প্রক্রিয়াকে জরুরিভিত্তিতে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে হবে।'
জোলি তার বক্তব্যে আরও বলেন, "শীতকালীন সামগ্রী এবং অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম কোনো বিলম্ব ছাড়াই পাঠানো উচিত। ত্রাণ সরবরাহে প্রতিটি দিনের বিঘ্ন মানেই আরও মানুষের জীবন হারানো।"
মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য কাজ করে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জোলি।
তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, তিনি মিশরে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি এবং সুদানিজ শরণার্থী পরিবারগুলোর সাথেও দেখা করেছেন।
