যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যরাতে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলার রাজধানী
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আজ শনিবার ভোরের দিকে এসব বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কেঁপে উঠে শহরটির বিভিন্ন এলাকা।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সেই সঙ্গে শহরের ওপর দিয়ে নিচু উচ্চতায় বিমান উড়ে যাওয়ার শব্দও পাওয়া গেছে। কারাকাসের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বড় সামরিক ঘাঁটির আশপাশের এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে।
বিস্ফোরণের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সিএনএনের যাচাই করা একটি ভিডিওতে রাতের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। ধোঁয়ার নিচে আগুনের আভা এবং অন্য একটি স্থানে আলোর ঝলকানির সঙ্গে বিকট শব্দও শোনা যায় ওই ভিডিওতে।
শুধু রাজধানীই নয়, কারাকাসের উত্তরে লা গুয়াইরা এবং উপকূলীয় শহর ইগুয়েরোতেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
মাদক চোরাচালান বন্ধে ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযান 'শিগগিরই' শুরু হবে বলে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত অক্টোবরে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, অভিবাসী ও মাদকের অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে তিনি সিআইএকে ভেনেজুয়েলার ভেতরে কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন।
এ ঘটনার বিষয়ে হোয়াইট হাউস, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত
মাদক চোরাচালান রোধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আসার ইঙ্গিত দিয়েছে ভেনেজুয়েলা। গত বৃহস্পতিবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এমন মনোভাব প্রকাশ করেন। তবে গত সপ্তাহে দেশটিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর কথিত হামলা নিয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি।
মাদুরো আবারও অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকার পতন ঘটাতে চায় এবং দেশটির বিশাল তেলের মজুত নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। তবে সুর কিছুটা নরম করে তিনি এ-ও বলেছেন, 'তারা (যুক্তরাষ্ট্র) যদি তেল চায়, ভেনেজুয়েলা মার্কিন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। যেমনটা শেভরন (মার্কিন তেল কোম্পানি) করছে।'
ভেনেজুয়েলার মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলা হয়েছে কি না—সরাসরি এমন প্রশ্নের জবাবে মাদুরো বলেন, 'এ বিষয়ে আমরা হয়তো কয়েক দিন পর কথা বলব।' মাদুরো বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণে এটা স্পষ্ট যে তারা হুমকি, ভীতি প্রদর্শন ও শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ওপর খবরদারি করতে চায়।
মাদুরোর এই সাক্ষাৎকারটি রেকর্ড করা হয়েছিল থার্টিফার্স্ট নাইটে। ঠিক ওই দিনই মার্কিন বাহিনী মাদক চোরাচালানকারী সন্দেহে পাঁচটি নৌকায় হামলা চালায়। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হন।
ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ নিয়ে মোট ৩৫টি নৌকায় হামলার ঘটনা ঘটল এবং এতে অন্তত ১১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার নাগরিকেরা রয়েছেন।
মাদকবিরোধী অভিযানের নামে হামলা
ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর 'অবরোধ' আরোপের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়েছে। প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে অন্তত দুই ডজন জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভেনেজুয়েলার যেখান থেকে নৌকায় মাদক তোলা হয়, এমন একটি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র 'আঘাত' হেনেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ প্রয়োগ শুরুর পর ভেনেজুয়েলার মাটিতে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম স্থল অভিযান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলাটি সিআইএর মাধ্যমে করা হয়েছে কি না, তা ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার হাত রয়েছে।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলা মাদক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সয়লাব করে দিচ্ছে। এই অজুহাতে গত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা নৌকাগুলোতে বোমা হামলা চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্বের অনেক দেশ এসব হামলাকে 'বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড' বলে নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে মাদুরো সরকার মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
