মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক জাহাজ পাঠানোর বিষয়ে জটিলতা রয়েছে: জাপান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালীকে 'উন্মুক্ত করতে ও নিরাপদ' রাখতে ভূমিকা রাখবে জাপান।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জাপানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য জাপানের সামরিক জাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে অনেক বড় বাধা বা জটিলতা রয়েছে।
রোববার জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির পলিসি চিফ কোবায়াশি তাকায়ুকি দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে–কে বলেন, 'আইনগতভাবে কাজটি পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়। তবে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।'
আর অল্প কয়েকদিন পরেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি'র ওয়াশিংটন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় এক শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তবে ইরানের সঙ্গে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জাপানের অর্থনীতি অনেকটাই মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল। তবে প্রায় আট দশক ধরে শান্তিবাদী সংবিধান অনুসরণ করা দেশটি ইরান যুদ্ধ নিয়ে এখনও স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি।
তবে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, জাপানের অধিকাংশ ভোটার এই যুদ্ধের বিরোধী।
গত বুধবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি এই সংকট মোকাবিলায় তাদের তেলের মজুত থেকে ৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ের ঘোষণা দেন।
এদিকে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি তাদের জরুরি তেলের মজুত থেকে রেকর্ড ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত সপ্তাহে সংসদে এ বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তাকাইচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীর আশপাশে পেতে রাখা মাইন অপসারণে সহায়তায় মাইনসুইপার জাহাজ মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা টোকিওর নেই।
রোববার কোবায়াশি আরও বলেন, বারবার অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতার কারণে ট্রাম্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য বোঝার জন্য তাকাইচির উচিত তার [ট্রাম্পের] সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ রাখা।
তিনি বলেন, 'তিনি [ট্রাম্প] আসলে কী চান, তা আমাদের বোঝার চেষ্টা করতে হবে। এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।'
