ওয়ার্নার ব্রাদার্স কিনছে নেটফ্লিক্স: এক নজরে এই চলচ্চিত্র জায়ান্টের ১০২ বছরের ইতিহাস
ঋণসহ ৮২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ডিসকভারির চলচ্চিত্র ও স্ট্রিমিং ব্যবসা কিনে নিচ্ছে নেটফ্লিক্স। শুক্রবার এক ঘোষণায় স্ট্রিমিং জায়ান্টটি এই তথ্য জানিয়েছে।
২০২৬ সালের মধ্যভাগে প্রতিষ্ঠানটি দুই কোম্পানিতে ভাগ হবে, ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি এমন ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই তা কেনার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে প্যারামাউন্ট ও কমকাস্টকে পিছনে ফেলে নেটফ্লিক্স সেরা দরদাতা হিসেবে উঠে আসে।
নেটফ্লিক্স আশা করছে, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
হলিউডের পাঁচ প্রধান স্টুডিওর একটি হলো ওয়ার্নার ব্রাদার্স পিকচার্স, ১৯২৩ সালে হ্যারি, আলবার্ট, স্যামুয়েল এবং জ্যাক ওয়ার্নার—এই চার ভাই মিলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; বাকি চারটি হলো প্যারামাউন্ট পিকচার্স, সনি পিকচার্স, ইউনিভার্সাল পিকচার্স ও ওয়াল্ট ডিজনি স্টুডিওস।
ক্যালিফোর্নিয়ার বারবাংকে ১১০ একর জায়গাজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে ওয়ার্নার ব্রাদার্স। উল্লেখ্য, ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি মূলত সিএনএন-এর মূল কোম্পানি।
এক নজরে এর ১০২ বছরের ইতিহাস দেখে নেয়া যাক:
শুরুর দিনগুলো ও সবাক চলচ্চিত্র
১৯২৩ সালে স্টুডিওটির প্রথম অফিশিয়াল রিলিজ ছিল নির্বাক ড্রামা 'মেইন স্ট্রিট'। পরবর্তীতে ওয়ার্নার ভাইয়েরা ভাইটাফোন ব্যবহারের মাধ্যমে শব্দ সংযোজনে বিনিয়োগ করেন।
১৯২৬ সালে আসে 'ডন জুয়ান' এবং ১৯২৭ সালে মুক্তি পায় প্রথম সবাক সংলাপের চলচ্চিত্র 'দ্য জ্যাজ সিঙ্গার'। ১৯২৯ সালের মিউজিক্যাল 'অন উইথ দ্য শো!' ছিল প্রথম পূর্ণাঙ্গ সবাক রঙিন ফিচার ফিল্ম।
১৯৩০-এর দশক ও লুনি টিউনস
১৯৩০-এর দশকে ওয়ার্নার ব্রাদার্স বছরে প্রায় ১০০টি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করত এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬০টি থিয়েটার নিয়ন্ত্রণ করত। ১৯৩০ সালে ওয়াল্ট ডিজনির সঙ্গে পাল্লা দিতে তৈরি করা হয় অ্যানিমেটেড 'লুনি টিউনস'।
এছাড়া 'দ্য পাবলিক এনিমি' (১৯৩১) ও 'লিটল সিজার'-এর মতো গ্যাংস্টার মুভি এবং এমজিএম ক্লাসিক 'দ্য উইজার্ড অফ অজ' ও 'গন উইথ দ্য উইন্ড'-এর স্বত্ব তাদের হাতে আসে।
যুদ্ধ পরবর্তী ক্লাসিক ও টিভি জগত
১৯৪০-এর দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয় কালজয়ী রোমান্টিক ড্রামা 'ক্যাসাব্লাঙ্কা'। এটি ছিল ওই বছরের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমাগুলোর একটি।
এরপর একে একে মুক্তি পায় 'আ স্ট্রিটকার নেমড ডিজায়ার', 'ইস্ট অফ ইডেন', 'রেবেল উইদাউট আ কজ', 'মাই ফেয়ার লেডি' এবং 'হুজ এফ্রেইড অফ ভার্জিনিয়া উলফ'-এর মতো হিট সিনেমা। ১৯৫৫ সালে ওয়েস্টার্ন ও ডিটেকটিভ শো দিয়ে টেলিভিশনেও কার্যক্রম শুরু করে তারা।
মালিকানা বদল ও ডিসি ইউনিভার্স
১৯৬৭ সালে এলিয়ট এবং কেন হাইম্যান কোম্পানিটি কিনে নেন এবং নাম হয় ওয়ার্নার ব্রাদার্স-সেভেন আর্টস। সে বছরই মুক্তি পায় 'বনি অ্যান্ড ক্লাইড'। এরপর আসে 'দ্য এক্সরসিস্ট', 'ব্লেড রানার' ও 'দ্য কালার পার্পল'।
১৯৬৯ সালে কিনি ন্যাশনাল কোম্পানি এটি কিনে নিয়ে নাম দেয় ওয়ার্নার কমিউনিকেশনস ইনকর্পোরেটেড। কিনি ন্যাশনাল পিরিয়ডিক্যাল পাবলিকেশন্সের মালিক ছিল, যা এখন ডিসি কমিকস নামে পরিচিত।
এর হাত ধরেই ১৯৭৮ সালে 'সুপারম্যান' এবং ১১ বছর পর 'ব্যাটম্যান' মুক্তি পায়। বর্তমানে পরিচালক জেমস গান ডিসি ইউনিভার্সের রিবুট বা পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০২৭ সালে 'দ্য ব্যাটম্যান'-এর সিক্যুয়েল আসার কথা রয়েছে।
হ্যারি পটার ও গেম অব থ্রোন্সের যুগ
১৯৮৯ সালে টাইম ইনকর্পোরেটেডের সঙ্গে একীভূত হয়ে গঠিত হয় টাইম ওয়ার্নার। এইচবিও, সিএনএন, কার্টুন নেটওয়ার্কের মতো চ্যানেলগুলো এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৯৯ সালে মুক্তি পায় 'দ্য ম্যাট্রিক্স'।
২০০১ সালে মুক্তি পায় বছরের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা 'হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য সোর্সারার্স স্টোন'। ২০১১ সাল পর্যন্ত এই ফ্র্যাঞ্চাইজির আরও সাতটি সিনেমা মুক্তি পায়। অন্যদিকে এইচবিও উপহার দেয় 'সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি', 'দ্য সোপ্রানোস', 'গেম অফ থ্রোনস' এবং 'সাকসেশন'-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজ।
২০১৮ সালে এটিঅ্যান্ডটি ৮৫ বিলিয়ন ডলারে টাইম ওয়ার্নারকে কিনে নেয় এবং চার বছর পর ডিসকভারির সঙ্গে একীভূত হয়ে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি গঠিত হয়।
অন্যদিকে, ১৯৯৭ সালে ডিভিডি ভাড়ার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা নেটফ্লিক্স ২০০৭ সালে স্ট্রিমিং সার্ভিস চালু করে এবং ২০১২ সালে নিজেদের প্রথম অরিজিনাল সিরিজ 'লিলিহ্যামার' নিয়ে আসে।
এই অধিগ্রহণের ফলে ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের সমৃদ্ধ ফিল্ম লাইব্রেরির পাশাপাশি চলতি বছরে মুক্তি পাওয়া ওয়ার্নার ব্রাদার্সের কিছু চলচ্চিত্র থেকেও লাভবান হবে নেটফ্লিক্স। এর মধ্যে রয়েছে বছরের সর্বোচ্চ আয়ের ডমেস্টিক সিনেমা 'এ মাইনক্রাফট মুভি' এবং চমক জাগানো হিট 'সিনার্স'।
