টাইপরাইটারের বিশ্বভ্রমণ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের খবরও লেখা হয়েছে এতে
খ্যাতনামা শিল্পী মারচেলো নিৎসোলির নকশা করা অলিভেটি লেতেরা-৩২ টাইপরাইটার মধ্য-শতাব্দীর ইতালীয় নান্দনিকতার চমৎকার প্রতিনিধিত্ব করে। এর গড়ন মসৃণ। এর শৈলী পরিশীলিত। আর রঙ? কালোর বদলে টিল—যা এক ধরণের মনকাড়া বিস্ময়।
অতএব খুবই স্বাভাবিক যে লেতেরা-৩২ এবং তার পূর্বসূরী লেতেরা-২২ এখন নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট, সান ফ্রানসিসকো মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টসহ বহু প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহে জায়গা পেয়েছে।
তবে এই কারণে লেতেরা ৩২–এর একটি মডেল দ্য টাইমসের নিজস্ব জাদুঘরে নেই। এর ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায় জেমস পি. স্টারবার লেখা "ফ্র্যাঙ্কিস প্লেস"–এ। ১৯৬৭ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত তিনি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে কাজ করেন। তিনি তাঁর লেতেরা-৩২ সম্পর্কে বলেছিলেন "আমার পুরোনো বিদেশি সংবাদদাতার পোর্টেবল টাইপরাইটার—এক নির্ভরযোগ্য কর্মযন্ত্র, যা এশিয়ার যুদ্ধ, বিদ্রোহ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও আমাকে অনুগতভাবে সেবা দিয়েছে।"
স্টারবা এই লেতেরা-৩২ দিয়ে ভিয়েতনাম যুদ্ধ, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ, ১৯৭৮ সালে শুরু হওয়া কম্বোডিয়া–ভিয়েতনাম যুদ্ধসহ নানান দেশে গেরিলা যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের খবর লিখেছেন। টাইপরাইটারের কেসে ঝোলানো ট্যাগগুলোই জানিয়ে দেয় তার ভ্রমণের ইতিহাস—এয়ার নিয়ুজিনি (পাপুয়া নিউ গিনি), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স, দ্রুকএয়ার–রয়্যাল ভুটান এয়ারলাইন্স, থাই এয়ারওয়েজ এবং ভারতের মাইসোরের ললিতা মহল প্যালেস হোটেল।
"এটি ছিল সবচেয়ে ছোট, সবচেয়ে কার্যকর টাইপরাইটার," ২০২৩ সালের এক সাক্ষাৎকারে আমাকে বলেছিলেন স্টারবা। (লেতেরা ৩২–এর উচ্চতা মাত্র চার ইঞ্চি।) "আমাদের প্রায় সবাই এগুলো সাথে রাখতাম, কারণ এটাকে কেসসহ হাতের কাছে রাখা যেত, আর সঙ্গে থাকত প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামাদিসহ সংবাদদাতার ব্রিফকেস।"
সম্প্রতি স্টারবা ১৯৭১ সালে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় তাঁর একটি পুরোনো ছবি খুঁজে পান। সেখানে তাকে লেতেরা ৩২–এর পাশে দেখা যায় সউয়েনসন্স ব্লু মাউন্টেন লরিকিট নামের এক রঙিন টিয়াপাখির সঙ্গে।
"পাখিটিকে আমি স্থানীয় বাজার থেকে কিনেছিলাম," স্টারবা সম্প্রতি এক ইমেলে লিখেছেন। "ও টাইপরাইটারের ক্যারেজের ওপর চড়তে ভালোবাসত, ফলে টাইপ করা কঠিন হয়ে যেত—কিন্তু সম্ভবত তাতেই আমার লেখা গল্পগুলো আরও পড়ার যোগ্য হয়ে উঠত। এই তো জীবন," তিনি যোগ করেন।
