এআইয়ে বিনিয়োগ বাড়াতে ২০২৮ সালের মধ্যে ৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে এইচপি
২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এইচপি ইনকরপোরেশন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিচালন খরচ কমানোর লক্ষ্যে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে প্রতিষ্ঠানটি।
গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এইচপি জানায়, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সহজ করা, পণ্য উন্নয়ন দ্রুত করা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনরিকে লোরেস বলেন, পণ্য উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম ও গ্রাহকসেবা বিভাগে কর্মরত কর্মীরাই মূলত ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়বেন। তিনি বলেন, 'আমরা আশা করছি, এই উদ্যোগের ফলে আগামী তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটির ১০০ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে।'
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও কর্মী ছাঁটাই করেছিল এইচপি। তখন পূর্বঘোষিত পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১ হাজার থেকে ২ হাজার কর্মীদের বিদায় জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে এআই–সংবলিত কম্পিউটারের বাজার চাহিদা বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর শেষ হওয়া চতুর্থ প্রান্তিকে তাদের মোট কম্পিউটার চালানের ৩০ শতাংশই ছিল এআই–ফিচারযুক্ত।
বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এআই অবকাঠামো গড়ে তোলায় জোর দিচ্ছে। এতে সার্ভার বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় ডায়নামিক র্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমোরি (ডিআরএএম) ও ন্যানড—বহুল ব্যবহৃত এই দুই ধরনের মেমোরি চিপের দাম বেড়ে গেছে।
এইচপির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনরিকে লরেস জানিয়েছেন, চিপের এই বাড়তি দামের প্রভাব ২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে তাদের ওপর পড়তে পারে। তবে অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য তাদের হাতে পর্যাপ্ত চিপ মজুত রয়েছে।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে এইচপির শেয়ারপ্রতি আয় (অ্যাডজাস্টেড ইপিএস) ২.৯০ থেকে ৩.২০ ডলার হতে পারে বলে ধারণা করছে কোম্পানিটি। যদিও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল গড়ে ৩.৩৩ ডলার। অর্থাৎ আয় প্রত্যাশার চেয়ে কম হতে পারে।
এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় ৭৩ থেকে ৮১ সেন্ট হতে পারে বলে জানিয়েছে এইচপি। এই আয়ের গড়ও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের (৭৯ সেন্ট) চেয়ে নিচে।
তবে আয়ের পূর্বাভাসের চিত্র হতাশাজনক হলেও গত চতুর্থ প্রান্তিকে এইচপির আয় বেড়েছে। এ সময় তাদের আয় হয়েছে ১ হাজার ৪৬৪ কোটি (১৪.৬৪ বিলিয়ন) ডলার, যা বিশ্লেষকদের ১ হাজার ৪৪৮ কোটি ডলারের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।
