টাইটানিকে একসাথে মৃত্যুকে বেছে নেন; ১০০ বছর পর ১৭ লাখ পাউন্ডে বিক্রি তাদের প্রেমের শেষ স্মৃতিচিহ্ন
টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা এক স্বর্ণের পকেটঘড়ি নিলামে বিক্রি হয়েছে দেড় মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি দামে—যা এ ধরনের ঘড়ির জন্য 'রেকর্ড' বলে জানিয়েছে নিলাম প্রতিষ্ঠান।
টাইটানিক ডুবে যাওয়ার ঘটনায় প্রাণ হারানো যাত্রীদের মধ্যে অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইসিডোর স্ট্রস। স্ত্রী ইডাসহ তিনি সেই দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের একজন, যারা ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কে যাওয়ার পথে জাহাজটি বরফখণ্ডে ধাক্কা লাগার পর ডুবে মৃত্যুবরণ করেন।
দুর্ঘটনার কয়েকদিন পর স্ট্রসের মরদেহ সাগর থেকে উদ্ধার করা হয়। তার সঙ্গে পাওয়া যায় ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের একটি জুলস জুরগেনসন ব্র্যান্ডের পকেটঘড়ি। পরে স্ট্রস দম্পতির ছেলে জেসের কাছে সেটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
স্ট্রস পরিবারের কাছে শতবর্ষের বেশি সময় ধরে সংরক্ষিত থাকা এই ঘড়িটি শনিবার ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারের দেবাইজেসে হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন নিলামঘরে বিক্রি হয় ১৭ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ডে।
ঘড়িটিতে ইসিডোরের আদ্যক্ষর এবং ১৮৮৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তারিখটি খোদাই করা আছে। এই দিনটি ছিল ইসিদরের ৪৩তম জন্মদিন এবং এই বছরেই তিনি ও তার ভাই নাথান নিউইয়র্কের বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর মেসি'স-এর পূর্ণ অংশীদার হয়েছিলেন।
টাইটানিক দুর্ঘটনার যত মর্মান্তিক গল্প বিশ্বজুড়ে প্রচলিত আছে, তার মধ্যে অন্যতম আলোচিত ও হৃদয়স্পর্শী ইসিডোর ও ইডা স্ট্রস দম্পতির আত্মত্যাগ। সেই ভয়াবহ রাতে যারা মারা গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে এই দম্পতি আজও বিশেষভাবে স্মরণীয়।
জেমস ক্যামেরনের ১৯৯৭ সালের অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র 'টাইটানিক'-এ এই দম্পতির করুণ পরিণতি এবং ভালোবাসার দৃশ্যও ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল।
জানা যায়, লাইফবোটে আসন দেওয়া হলেও তারা একে অপরকে ছেড়ে যেতে রাজি হননি। ইসিডোরের মরদেহ পরে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, ইডার দেহাবশেষ আর কখনও পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্কের উডলন সিমেট্রিতে ইসিডোরের কবরে ইডার স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়েছে।
১৯৯৭ সালের 'টাইটানিক' চলচ্চিত্রে দেখা যায় দম্পতিটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার সময় একে অপরকে জড়িয়ে ছিলেন। বাস্তবে, তারা একে অপরকে ছেড়ে যেতে রাজি হননি। লাইফবোটে ওঠার প্রস্তাব থাকলেও ইসিডোর অস্বীকার করেন, যাতে কমবয়সী পুরুষরা আগে উঠতে পারে। ইডাও তাকে ছেড়ে যেতে রাজি হননি।
এভাবেই ইসিডোর ও ইডার প্রেম এবং আত্মত্যাগের গল্প টাইটানিকের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
