গ্রেপ্তারের সময় শিশুকে জড়িয়ে ধরে বাবা ‘অচেতন’, ভাইরাল ভিডিওতে তীব্র সমালোচনায় মার্কিন অভিবাসন সংস্থা
যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সময় ছোট শিশুকে জড়িয়ে ধরে তার জ্ঞান হারানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে দেশটির আমেরিকার অভিবাসন, শুল্ক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের হাত থেকে বাঁচাতে অসুস্থতার ভান করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার ম্যাসাচুসেটসের ফিচবার্গ শহরে ঘটা এই ঘটনার ভিডিওটি প্রকাশ করেছে 'বোস্টন গ্লোব' পত্রিকা।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গাড়ির ভেতরে তুমুল হট্টগোল চলছে। চালকের আসনে থাকা এক ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়েছেন এবং তার পাশে থাকা এক নারী আতঙ্কিত হয়ে তাকে জাগানোর চেষ্টা করছেন। তাদের মাঝখানে একটি শিশু কাঁদছে। এসময় বাইরে থেকে লোকজনকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, 'তার খিঁচুনি হচ্ছে।'
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একজন কর্মকর্তা যাত্রীদের গাড়ি থেকে টেনে বের করার চেষ্টা করছেন, আর স্থানীয় পুলিশের একজন কর্মকর্তা জড়ো হওয়া জনতাকে বারবার ' পেছনে সরে যেতে' বলছেন। এসময় বাইরে থাকা আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, 'ওরা তার হাত থেকে বাচ্চাটাকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।'
আইসিই জানিয়েছে, ভিডিওটি পরিস্থিতির সঠিক চিত্র তুলে ধরছে না। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সহকারী সচিব ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা জরুরি চিকিৎসা কর্মীরা 'কোনো অসুস্থতার লক্ষণ খুঁজে পাননি' এবং ওই পরিবার চিকিৎসা নিতেও অস্বীকার করে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, 'একজন অপরাধীকে বিচার থেকে পালাতে সাহায্য করার জন্য অসুস্থতার ভান করা হচ্ছে।'
ভিডিওতে থাকা ওই ব্যক্তি কার্লোস সেবাস্তিয়ান জাপাটা শুক্রবার 'বোস্টন গ্লোব'কে বলেন, তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হবে—এই ভয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, 'তারা আমার স্ত্রীকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, তাই আমি তাকে ছাড়ছিলাম না।'
জাপাটার অভিযোগ, গ্রেপ্তারের চেষ্টার সময় কর্মকর্তারা তাকে ধাক্কা দেন, পাঁজরে আঘাত করেন এবং তার ঘাড়ে চাপ দেন। 'এরপরই আমি স্ত্রীকে ছেড়ে দিই,' বলেন তিনি। 'আমার খিঁচুনির মতো হয়েছিল।'
আইসিই নিশ্চিত করেছে যে, তাদের অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল জাপাটার স্ত্রী জুলিয়ানা মিলেনা ওজেদা-মন্তোয়া। ইকুয়েডরের নাগরিক জুলিয়ানাকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, এক সহকর্মীকে ছুরিকাঘাত এবং তার দিকে ময়লার ঝুড়ি ছুড়ে মারার অভিযোগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ওজেদা-মন্তোয়ার বিরুদ্ধে বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে হামলার মামলা করেছিল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জোরদার নির্বাসন অভিযানের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। এর আগে চলতি সপ্তাহেই লস অ্যাঞ্জেলেসে মাস্ক পরা সশস্ত্র অভিবাসন কর্মকর্তারা এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করে তার এক বছর বয়সী শিশুসহ গাড়ি নিয়ে চলে যায়, যা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়।
