হলফনামা: তারেক ও ডা. শফিকুরের চেয়েও বার্ষিক আয় বেশি নাহিদের
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নগদ অর্থ রয়েছে প্রায় ৬১ লাখ টাকা।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে হলফনামাগুলো আজ বুধবার প্রকাশ করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয় তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমানের চেয়ে বেশি। তবে মোট সম্পদের দিক দিয়ে তারেক রহমান ও শফিকুর রহমান এগিয়ে। আর নগদ অর্থের হিসাবে সবচেয়ে বেশি অর্থের মালিক ডা. শফিকুর রহমান।
হলফনামা অনুযায়ী, তারেক রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ১৮৫ টাকা। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা, যা মূলত শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, বন্ড ও ব্যাংক আমানত থেকে অর্জিত।
তারেক রহমানের নিজের নামে নগদ ও ব্যাংক আমানত রয়েছে ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৭ টাকা। এছাড়া তার নামে প্রায় ৯০ লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, তার বিরুদ্ধে একসময় করা ৭৭টি মামলার সবকটি থেকে তিনি খালাস, অব্যাহতি বা মামলা খারিজের মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছেন।
৫৭ বছরের বেশি বয়সী তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন করছেন। তার স্ত্রীর নামে নগদ ও ব্যাংকে ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৭ টাকা রয়েছে। স্ত্রীর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার ১৯১ টাকা।
তারেক রহমানের এফডিআর রয়েছে ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকা; আর স্ত্রীর এফডিআর রয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। তিনি এ বছর (২০২৫-২৬) আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা এবং স্ত্রী আয়কর দিয়েছেন ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৭১৩ টাকা।
ডা. শফিকুর রহমানের বার্ষিক আয় তুলনামূলকভাবে কম হলেও নগদ অর্থের পরিমাণ বেশি। হলফনামা অনুযায়ী, কৃষিখাত ও অন্যান্য উৎস থেকে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো ১ কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৪ টাকা। তবে নগদ অর্থের হিসাবে তার হাতে রয়েছে ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৭ টাকা।
এছাড়া তার নামে ১১.৭৭ শতক জমির ওপর একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২৭ লাখ টাকা। শেয়ার, বন্ড ও অন্যান্য বিনিয়োগ মিলিয়ে তার আর্থিক বিনিয়োগের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। হলফনামা অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে থাকা ৩৪টি মামলার মধ্যে ৩২টি মামলা থেকে খালাস, অব্যাহতি, প্রত্যাহার হয়েছেন এবং দুটি মামলা হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত আছে।
ডা. শফিকুর রহমানের নামে দুই একর ১৭ শতক কৃষিজমি আছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। কৃষিখাত থেকে তিনি বছরে তিন লাখ টাকা আয় করেন। বন্ড ঋণপত্র স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়- এমন কোম্পানির শেয়ার আছে ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ টাকার। তার নিজের দুই লাখ টাকার ইলেকট্রিক পণ্য আছে। এছাড়া সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের যানবাহনসহ দুই লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ হিসাবে ৪ লাখ ৯০ হাজার ২৬৩ টাকা দেখিয়েছেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্নে দেখানো শফিক রহমানের সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৪ টাকা উল্লেখ করেছেন। এবং প্রদত্ত আয়কর ৩০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয় তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমানের চেয়ে বেশি। হলফনামা অনুযায়ী, পরামর্শক পেশা থেকে তার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা। নাহিদ ইসলামের নিজের কাছে নগদ রয়েছে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। তার ও তার স্ত্রীর নামে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য অস্থাবর সম্পদের কথাও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে ।
নাহিদ ইসলামের নিজের অর্জনকালীন পৌনে ৮ লাখ টাকা মূল্যের অলংকার এবং স্ত্রীর আছে অর্জনকালীন ১০ লাখ টাকা মূল্যের গয়না। ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও আসবাব আছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীদের এসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রমাণিত হলে নির্বাচনের পরও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তিন শীর্ষ নেতার সম্পদ, আয় ও মামলার তথ্য নিয়ে প্রকাশিত এই হলফনামা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় হলফনামায় প্রার্থীর ১০ ধরনের তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে; এসব তথ্য প্রচারের বিধান রয়েছে নির্বাচনী আইনে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী হতে আড়াই সহস্রাধিক মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে অর্ধশত দলের প্রার্থী রয়েছে দুই সহস্রাধিক, আর বাকিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী রয়েছে ৩৩১ জন।
বাছাই, আপিল ও নিষ্পত্তি শেষে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হবে ২০ জানুয়ারি; পরদিন তাদের প্রতীক দেবেন রিটার্নিং অফিসার। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন হবে, একই দিন গণভোটও রয়েছে।
