আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিল ফ্রান্স
আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে ফ্রান্স। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ভাষণ দেয়ার সময় প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, 'শান্তির সময় এসেছে' এবং 'গাজার চলমান যুদ্ধের কোনো যুক্তি নেই'। খবর বিবিসি'র।
গাজা যুদ্ধের দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান পরিকল্পনার ওপর দৃষ্টি রেখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের উদ্যোগে একদিনের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজিত হয়। তবে জি৭ এর সদস্য জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্র এই সম্মেলনে যোগ দেয়নি।
রোববার যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণার পর এবার বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, অ্যান্ডোরা ও সান মারিনোরও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
এদিকে, গাজায় মানবিক সংকট বৃদ্ধি ও পশ্চিম তীরের বসতি নির্মাণের বিষয়ে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইসরায়েল বলেছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলে হামাসকে পুরস্কৃত করা হবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল।
গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে ইসরায়েলের হামলায় ৬৫,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা সিটিতে আক্রমণ চালাচ্ছে। সেখানে এক মিলিয়ন মানুষ বসবাস করছিল এবং গত মাসে সেখানে খাদ্য সংকট থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলি বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, 'সর্বদা ন্যায়েরই শক্তির ওপর জয় পাওয়া উচিত'।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি গড়তে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমাদের দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষা করতে হবে, যাতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন শান্তিতে একসঙ্গে থাকতে পারে'।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদও জাতিসংঘে বলেন, একমাত্র দুই-রাষ্ট্র সমাধানই স্থায়ী শান্তি আনতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উর্সুলা ভন ডার লেন জানান, গাজার পুনর্গঠনের জন্য নতুন আর্থিক উদ্যোগ গঠন করা হবে। তিনি বলেন, 'আমাদের সবাইকে আরও কাজ করতে হবে। এজন্য আমরা একটি ফিলিস্তিন দাতা গ্রুপ তৈরি করব'।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজার পরিস্থিতিকে 'নৈতিক, আইনি ও রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য' বলে আখ্যায়িত করেন এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানকে শান্তির একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাস, যিনি মার্কিন ভিসা বাতিলের কারণে নিজে আসতে পারেননি, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তৃতা দেন। তিনি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চাইছেন এবং বলেন, হামাস গাজার শাসনে অংশ নিতে পারবে না। তিনি বলেন, হামাস তাদের অস্ত্র ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে।
আব্বাস বলেন, 'আমরা চাই একটি একক রাষ্ট্র, যেখানে অস্ত্র থাকবে না'। তিনি হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলারও নিন্দা জানান এবং ইসরায়েলিদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আমাদের ও আপনার ভবিষ্যত শান্তির ওপর নির্ভর করছে। যথেষ্ট সহিংসতা ও যুদ্ধ হয়েছে।'
মাখোঁ বলেছেন, ফ্রান্স গাজায় একটি 'স্থিতিশীলতা মিশনে' (স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন) অবদান রাখতে প্রস্তুত এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (পিএ) অন্তর্ভুক্ত করে একটি অস্থায়ী প্রশাসন গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন, যা হামাস ভাঙার দায়িত্ব নেবে।
তিনি বলেন, ফ্রান্স শুধুমাত্র তখনই ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রে দূতাবাস খুলবে, যখন হামাসের হাতে থাকা সব বন্দী মুক্তি পাবে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি হবে।
ইসরায়েলের জাতিসংঘ দূত ড্যানি ড্যানন মাখোঁর ঘোষণার ঠিক আগে সাংবাদিকদের বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পর দুই-রাষ্ট্র সমাধান 'মৌলিকভাবে বাতিল' হয়ে গেছে। তিনি এই সপ্তাহের জাতিসংঘ আলোচনাকে 'প্রহসন' বলে অভিহিত করেন। এছাড়া তিনি পশ্চিম তীর দখল করে নেয়ার সম্ভাবনাও সম্পূর্ণ অস্বীকার করেননি।ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, জর্ডান নদীর পশ্চিম পাশে কোনো ফিলিস্তিনী রাষ্ট্র থাকবে না।
ঘোষণার আগে রোববার রাতে আইফেল টাওয়ারে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শিত হয়। সোমবার ফ্রান্সের কয়েকটি পৌরসভাতেও ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। যদিও সরকার স্থানীয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিয়েছিল।
