দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো জন্মের চেয়ে মৃত্যুহার বেশি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই প্রথম ফ্রান্সে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট (ইনসি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ফ্রান্সে ৬ লাখ ৫১ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। এর বিপরীতে জন্ম নিয়েছে ৬ লাখ ৪৫ হাজার শিশু। মূলত করোনা মহামারির পর থেকেই ফ্রান্সে আশঙ্কাজনক হারে জন্মহার কমতে শুরু করেছে।
ঐতিহাসিকভাবেই ইউরোপের অধিকাংশ দেশের চেয়ে ফ্রান্সের জনসংখ্যা কাঠামো বেশ শক্তিশালী ছিল। কিন্তু বর্তমানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জন্মহারের নিম্নগতি পুরো মহাদেশের মতো ফ্রান্সকেও সংকটে ফেলেছে। এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন দেশটির সরকারি অর্থব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইনসি আরও জানায়, গত বছর দেশটিতে সন্তান জন্মদানের হার নারীপ্রতি ১ দশমিক ৫৬-এ নেমে এসেছে, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বনিম্ন। এর আগে দেশটির পেনশন উপদেষ্টা পরিষদ ধারণা করেছিল, পেনশন তহবিলের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই হার অন্তত ১ দশমিক ৮ থাকা প্রয়োজন। বর্তমান হার সেই প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে ২০২৩ সালের তুলনায় এই পতন চোখে পড়ার মতো। ওই বছর ১ দশমিক ৬৫ জন্মহার নিয়ে ফ্রান্স দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। সে সময় ১ দশমিক ৮১ হার নিয়ে শীর্ষে ছিল বুলগেরিয়া।
জনতাত্ত্বিক এই পরিবর্তনের ফলে আগামী বছরগুলোতে ফ্রান্সে সরকারি ব্যয় করোনা মহামারিকালের মতো পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির জাতীয় অডিট অফিস গত মাসে সতর্ক করে বলেছে, এই পরিস্থিতি কর আদায়ের ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেবে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
অর্থনীতিবিদ ফিলিপ ক্রেভেল মনে করেন, গত শতকের ষাটের দশকে ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া বিশাল একটি জনগোষ্ঠী এখন অবসরে যাচ্ছে। এর ফলে শ্রমবাজারে বড় ধরনের জনবল সংকট তৈরি হতে পারে এবং কর্মক্ষেত্রে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি হওয়া সত্ত্বেও গত বছর ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যা সামান্য বেড়ে ৬ কোটি ৯১ লাখে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যান সংস্থা ইনসি জানায়, মূলত অভিবাসনের প্রভাবেই জনসংখ্যায় এই প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। গত বছর দেশটিতে নিট অভিবাসীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার।
এদিকে ফ্রান্সে মানুষের গড় আয়ু এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে নারীদের গড় আয়ু ৮৫ দশমিক ৯ বছর এবং পুরুষদের ৮০ দশমিক ৩ বছর। তবে জনসংখ্যায় বয়স্ক মানুষের হার বাড়াটা নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশটিতে বর্তমানে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশ, যা ২০ বছরের কম বয়সীদের সংখ্যার প্রায় সমান।
