রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় পুরোনো দেয়াল ধসে দুই শিশুর মৃত্যু
রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় খেলতে গিয়ে পুরোনো দেয়াল ধসে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উত্তর বাড্ডার পূর্বাঞ্চল ১০ নম্বর লেনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো— আয়েশা মনি (১০) ও নুসরাত জাহান মরিয়ম (৫)।
নিহত আয়েশা ও নুসরাত— দুজনের বাবাই রাজমিস্ত্রি ও গৃহনির্মাণ কাজের সঙ্গে জড়িত। প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে কান্নাকণ্ঠে তারা জানান, যাদের জন্য দেয়াল গড়ি, তাদেরই মৃত্যু দেয়াল চাপায়।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও বাসার সামনের রাস্তায় খেলতে বের হয় আয়েশা ও নুসরাত। ১০ নম্বর লেনের দুটি বাড়ির মাঝখানের সরু রাস্তার এক পাশে একটি পুরোনো ভবন ভাঙার কাজ চলছিল। বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ একটি পুরোনো দেয়াল ধসে পড়লে শিশু দুটি তার নিচে চাপা পড়ে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুপুর পৌনে ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আয়েশা কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ইয়াফেদি গ্রামের রংমিস্ত্রি মো. ইকবালের মেয়ে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়। আয়েশা স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। তারা উত্তর বাড্ডার পূর্বাচলে নিজেদের বাড়িতে থাকত।
অন্যদিকে, নুসরাত কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার মালোয়াদি গ্রামের রড মিস্ত্রি মো. শরিফের একমাত্র মেয়ে। তারা আয়েশাদের বাড়িতে ভাড়া থাকত।
আয়েশার বাবা ইকবাল হোসেন জানান, ওই গলিতে একটি পুরোনো বাড়ি ভেঙে নতুন ভবন তৈরির কাজ চলছে। রাস্তার পাশে একটি পুরোনো দেয়াল দাঁড় করানো ছিল এবং তার ভেতরে ইট-বালু রাখা ছিল। বেলা ১১টার দিকে ওই দেয়ালটি ধসে শিশুদের ওপর পড়ে।
তিনি বলেন, 'আমি নিজেই রাজমিস্ত্রী কাজের সঙ্গে জড়িত। যাদের ভবিষ্যতের জন্য দেয়াল গড়ি, রং করি, আজ সেই দেয়ালের নিচেই চাপা পড়ে আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। কী বলব, কিছু বলার নেই। শুধু আমার মেয়ের চেহারা চোখের সামনে ভাসছে৷'
একইভাবে শোকাতুর নুসরাতের বাবা মো. শরিফ বলেন, 'আমার একমাত্র মেয়ে আজ দেয়াল চাপায় মারা গেল। আমি নিজে দেয়াল তৈরি করি, রাজমিস্ত্রীর কাজ করি। আর আজ আমার মেয়ে সেই দেয়াল ধসে চাপা পড়ে মারা গেল, এর চেয়ে বড় কষ্ট আর নেই।'
বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. নাসিরুল আমীন জানান, ইতালি প্রবাসী এক ব্যক্তির পুরোনো বাড়ি ভাঙার কাজ চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। যে গলিতে দেয়াল ধসেছে সেটি মাত্র ৫-৬ ফুট প্রশস্ত, যেখানে রিকশাও প্রবেশ করতে পারে না। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।
