রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়েসহ নিহত ৪
রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়েসহ চারজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
সায়েন্স ল্যাব এলাকায় বালুবোঝাই ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা সাজু আক্তার সুমন (৪৭) ও তার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (২০) নিহত হন।
জানা যায়, সায়েন্স ল্যাব মোড়ে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী সাজু আহমেদ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। গুরুতর আহত অবস্থায় তার মেয়ে সুমাইয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী মো. রুবেল জানান, রাত ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছিলেন সাজু আহমেদ। পথে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দিলে দুজনেই ছিটকে পড়েন। সাজু আহমেদ ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে সুমাইয়াকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিউ মার্কেট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান বলেন, 'আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে সাজু আহমেদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের জরুরি বিভাগের মর্গে পাঠাই। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাক ও চালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা চলমান।'
এসআই মাহমুদুল হাসান আরও জানান, সাজুর পরিবার দক্ষিণ শাজাহানপুর এলাকায় বসবাস করে। তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক ছিলেন। তার মেয়ে সুমাইয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সে পড়াশোনা করতেন। নিউমার্কেট এলাকায় মেয়ের ঈদের কেনাকাটা শেষে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে তারা এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
অপরদিকে, একই রাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডের সাথে ধাক্কা লাগলে চালক আলিম (৫০) ও যাত্রী মো. হারুনুর রহমান (৩২) প্রাণ হারান। এই ঘটনায় আহত হারুনুর রহমানের স্ত্রী ও বোন বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা নাবিল জানান, হারুনুর রহমান স্ত্রী ও বোনকে সঙ্গে নিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন। পথে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের চ্যানেল আই অফিস সংলগ্ন ইউটার্নে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটি আইল্যান্ডের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে চালক ও যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। দ্রুত উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হলে চিকিৎসক চালক ও হারুনুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত হারুনুর রহমানের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থানার দশ কাহানিয়া এলাকায়। তিনি পরিবার নিয়ে মহাখালীতে থাকতেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহগুলো হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
