ট্রাম্প ‘সরকারের হুমকি’র বিরুদ্ধে জিমি কিমেলের পাশে জেনিফার অ্যানিস্টন, টম হ্যাঙ্কসসহ ৪০০ শিল্পী
মার্কিন কৌতুকাভিনেতা জিমি কিমেলকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার একজোট হয়েছেন হলিউড তারকারা। ৪০০–এরও বেশি তারকা যুক্তরাষ্ট্রে 'মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরকারি হস্তক্ষেপের' বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এক খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। এ চিঠির উদ্যোগ নিয়েছে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)।
জেনিফার অ্যানিস্টন, মেরিল স্ট্রিপ, টম হ্যাঙ্কস, সেলেনা গোমেজ, রবার্ট ডি নিরো, জেন ফন্ডা, জেমি লি কার্টিস, নাটালি পোর্টম্যান, ওলিভিয়া রদ্রিগোসহ অসংখ্য খ্যাতিমান শিল্পী চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। কিমেলের লেট-নাইট শো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পরই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে কৌতুকাভিনেতা জিমি কিমেল মঙ্গলবার থেকে আবারও তার লেট-নাইট টকশোতে ফিরছেন। রক্ষণশীল ইনফ্লুয়েন্সার চার্লি কার্কের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কৌতুক করার পর তাকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।
প্রচারকারী সম্প্রচার নেটওয়ার্ক এবিসি, সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, 'আমরা মনে করেছি কিছু মন্তব্য সময়োপযোগী ছিল না এবং তাই সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে। গত কয়েকদিন আমরা জিমির সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছি এবং সেই আলোচনার পর মঙ্গলবার থেকে অনুষ্ঠান ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
গত সপ্তাহে কিমেল চার্লি কার্কের সন্দেহভাজন হত্যাকারীকে নিয়ে মন্তব্য করেন, যা রক্ষণশীল মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তোলে। এর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) সদস্য ব্রেন্ডান কার ডিজনি-এবিসিকে কিমেলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। এরপর দেশজুড়ে একাধিক স্থানীয় টেলিভিশন স্টেশন কিমেলের অনুষ্ঠান প্রচার বন্ধের ঘোষণা দেয়।
এসিএলইউর খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, 'সরকার যখন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রতিশোধের ভয় দেখিয়ে একটি অনুষ্ঠান বন্ধ করায়, তখন সেটি আমাদের জাতির বাকস্বাধীনতার জন্য অন্ধকার মুহূর্ত তৈরি করে। সমালোচকদের স্তব্ধ করতে সরকার সাংবাদিক, শিল্পী, উপস্থাপক ও সৃজনশীল মানুষদের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলছে, যা আমাদের সংবিধান ও জাতীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী।'
চিঠিতে আরও বলা হয়, এটি কেবল বিনোদন শিল্প নয়, বরং সারা দেশের জন্য উদ্বেগজনক ঘটনা। 'শিক্ষক, আইনজীবী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থী—অনেকেই এখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাতের মুখোমুখি হচ্ছেন। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও আমরা সবাই বিশ্বাস করি, কাউকে চুপ করিয়ে দেওয়া হলে সেটি আমাদের সবার স্বাধীনতার ওপর আঘাত।'
চিঠিতে আরও স্বাক্ষর করেছেন, কৌতুকাভিনেত্রী চেলসি হ্যান্ডলার ও মায়া রুডলফ, নারী অধিকারকর্মী গ্লোরিয়া স্টেইনেম, চলচ্চিত্র নির্মাতা জাড আপাটো ও লিনা ডানহ্যাম, এবং অভিনেতা জুলিয়া লুই-ড্রেইফাস, কেরি ওয়াশিংটন, লরা লিনি, মাইকেল কিটন, পেদ্রো পাসকাল, রেজিনা কিংসহ আরও অনেকে।
