ইসরায়েল অংশ নিলে এবার ইউরোভিশন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি স্পেনের
২০২৬ সালের 'ইউরোভিশন সং কনটেস্ট'-এ ইসরায়েল অংশ নিলে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্পেন।
এর আগে আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্লোভেনিয়া একই ঘোষণা দেয়। বুধবার স্পেন জানায়, ইসরায়েল অংশ নিলে তারা প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াবে।
ইউরোভিশনের 'বিগ ফাইভ'—অর্থাৎ পাঁচটি প্রধান অর্থদাতা দেশের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রথম দেশ স্পেন।
আগামী বছরের ১২ থেকে ১৬ মে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠেয় এ আসর থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকারী আরটিভিই।
আরটিভিই-র পরিচালনা পর্ষদের ভোটাভুটিতে বয়কট সিদ্ধান্ত অনুমোদন পায়। এতে ১০ জন পক্ষে, ৪ জন বিপক্ষে এবং ১ জন ভোটদানে বিরত থাকেন।
এর আগে স্পেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী আর্নেস্ট উর্তাসুন বলেছিলেন, ইসরায়েল অংশ নিলে স্পেনের ইউরোভিশন থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।
ডাচ পাবলিক সম্প্রচারকারী এভরোট্রস জানায়, গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ 'আর ন্যায্যতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়'।
ইসরায়েলের অংশগ্রহণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ডিসেম্বর মাসে জানানো হবে।
ইসরায়েল ইউরোভিশনে অংশ নেয় কীভাবে?
ইসরায়েল প্রথম ইউরোভিশনে অংশ নেয় ১৯৭৩ সালে, তখন প্রতিযোগিতার নাম ছিল 'গ্র্যান্ড প্রি দ'ইউরোভিশন দে লা শঁসো'।
ওই বছরই ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (ইবিইউ)-এর সদস্যপদ পায় দেশটি। বর্তমানে ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৫৬টি দেশের ৭৩টি সক্রিয় ও ২১টি দেশের ৩৫টি সহযোগী সম্প্রচারকারী সংস্থা এই সংগঠনের সদস্য।
ইসরায়েল ছাড়াও ইউরোপের বাইরের আরও কয়েকটি দেশ ইউরোভিশনে অংশ নেয়—যেমন আর্মেনিয়া, আজারবাইজান এবং ২০১৫ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ায় এই প্রতিযোগিতার বিশাল ফ্যানবেজ রয়েছে এবং দেশটি ইবিইউ-র সহযোগী সদস্য হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে।
এই কারণেই প্রতিযোগিতার নাম 'ইউরোভিশন সং কনটেস্ট', 'ইউরোপিয়ান সং কনটেস্ট' নয়।
চারবার প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে ইসরায়েল ইউরোভিশনের অন্যতম সফল প্রতিযোগী। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে গত পাঁচ দশকে কয়েকবার এই আসরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিযোগীদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা
১৯৭৩ সালে প্রথমবার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ইলানিতকে বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরতে হয়। দর্শকদের পুরো পারফরম্যান্স চলাকালীন বসে থাকতে বলা হয়েছিল, এমনকি ফটোগ্রাফারদের প্রমাণ দিতে হয় যে তাদের ক্যামেরা আগ্নেয়াস্ত্র নয়।
২০২৪ সালের আসরে ইডেন গোলানকেও বিশেষ নিরাপত্তায় রাখা হয়। তার গানটির মূল নাম ছিল 'অক্টোবর রেইন', যা ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার (১,২০০ ইসরায়েলি নিহত ও ২৪০ জন গাজায় আটক) সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরে গানটির কথা বদলে দেওয়ায় ইডেন গোলান প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন।
ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিবাদের জন্য জরিমানা
প্রতিযোগিতায় বারবার ফিলিস্তিনপন্থী প্রতীক ও স্লোগান ব্যবহারের কারণে শাস্তির মুখে পড়েছে কয়েকটি দল ও দেশ।
২০১৯ সালে তেল আবিবে ফাইনাল অনুষ্ঠানে আইসল্যান্ডের ব্যান্ড 'হাতারি' ফিলিস্তিনি পতাকা প্রদর্শন করে। এর জেরে ইবিইউ আইসল্যান্ডের সম্প্রচারকারী সংস্থা আরইউভি-কে ৫ হাজার ইউরো জরিমানা করে।
একই অনুষ্ঠানে মার্কিন পপ তারকা ম্যাডোনা-র পারফরম্যান্সেও তার এক পুরুষ ও এক নারী ডান্সার—যার একজন ইসরায়েলি এবং অন্যজন ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে—একসঙ্গে সিঁড়ি বেয়ে ওঠেন।
পরে ম্যাডোনা বলেন, এটি ছিল 'শান্তি ও ঐক্যের বার্তা'।
তবে ইবিইউ জানায়, এ বিষয়টি আগে থেকে তাদের জানানো হয়নি এবং ম্যাডোনা জানতেন ইউরোভিশন একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ।
২০২৪ সালের মালমো এবং ২০২৫ সালের বাসেল-এ অনুষ্ঠিত ইউরোভিশন আসরেও ইসরায়েলবিরোধী ব্যাপক প্রতিবাদ হয়।
পারফরম্যান্স চলাকালীন দর্শকরা হুইসেল বাজিয়ে ও দুয়ো দিয়ে ইসরায়েলি শিল্পীদের বিরোধিতা করেন।
