সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ, পুলিশের গাড়িচাপায় তরুণের মৃত্যু, উত্তাল ইন্দোনেশিয়া

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও সংসদ সদস্যদের ভাতা বাড়ানোর প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভ করেন হাজারো মানুষ। এসময় পার্লামেন্ট ভবনের কাছে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশের গাড়ি চাপায় এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হন।
নিহত ব্যক্তির নাম আফফান কুরনিয়াওন (২১)। তিনি আফফান রাইড শেয়ারিং অ্যাপ গোজেক এবং গ্র্যাবে মোটরসাইকেল চালক হিসেবে কাজ করতেন।
এদিকে উক্ত ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ায় পুলিশ সংস্কারের দাবি ওঠার পাশাপাশি চলমান আন্দোলন দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সাবিয়ান্তোর প্রায় এক বছরের সরকারের জন্য প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির রাজধানী জাকার্তায় শুক্রবার বিকেলে বিক্ষোভের কারণে বেশ কিছু স্কুলে ছাত্রদের আগে বাড়ি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও কর্মচারীদের ঘরে বসে কাজ করার পরামর্শ দেয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ছবিতে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
শহরের সংসদ ভবন ও পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে বিভিন্ন পেশার মানুষ, রঙিন জ্যাকেট পরিহিত শিক্ষার্থী ও চালকরা বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা গেটের দিকে পাথর ছোড়ে এবং চিৎকার করে, 'হত্যাকারী! হত্যাকারী!'
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মোটরসাইকেল চালক পেনদি নাসির (৪৩) পুলিশের প্রতি আফফান কুরনিয়াওনের মৃত্যুর বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি রয়টার্সকে বলেন, 'আমরা চাই না আমাদের সহকর্মীরা আবার এই সহিংসতার শিকার হোক। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।'
স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান আছি রেস্তি সংসদ ভবনের সামনে সংসদ সদস্যদের হাউজিং ভাতা বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি বলেন, 'আমি এখানে আমার বন্ধুদের পক্ষ থেকে এসেছি, যারা সবকিছু নিয়ে বিরক্ত—সংসদ সদস্যদের কর্মকাণ্ড, সরকার সবকিছু নিয়ে।'
বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সাবিয়ান্তোর আগের শান্ত থাকার আহ্বান, আফফান কুরনিয়াওনের মৃত্যুতে সমবেদনা জানানো এবং ঘটনার পূর্ণ তদন্তের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিক্ষোভ চালিয়ে যায়।
প্রাবোও ভিডিও বার্তায় বলেন, 'অফিসাররা অতিরিক্ত কাজ করেছে, এটা দেখে আমি হতাশ। আমি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। যারা দোষী, তাদের জবাবদিহি করতে হবে।'
সবুজ জ্যাকেট পরা চালকরা জাভার সুরাবায়া, বানডুং ও সুলাওয়েসির গোরোনতালোতেও বিক্ষোভ করেছেন।
বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার শেল ও জল কামান ব্যবহার করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়ছে।
জাকার্তার পুলিশ প্রধান আসেপ এদি সুহেরি বলেন, বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের সময় একটি সশস্ত্র পুলিশ গাড়ি কুরনিয়াওনকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করে। তিনি কুরনিয়াওনের পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
একটি মোটরসাইকেল চালক সমিতি জানিয়েছে, কুরনিয়াওন বিক্ষোভে জড়িত ছিলেন না।
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় পুলিশের কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, কুরনিয়াওনকে ধাক্কা দেওয়া গাড়িতে থাকা সাতজন পুলিশ সদস্যকে নৈতিক অপরাধের জন্য ২০ দিনের জন্য আটক করা হবে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
কুরনিয়াওনের মৃত্যুর পর মোটরসাইকেল চালকরা বৃহস্পতিবার রাত এবং শুক্রবার পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেন।
কুরনিয়াওনের দাফনে শত শত সহকর্মী মোটরসাইকেল চালক অংশ নেন। তারা তার মরদেহ জাকার্তার কেন্দ্রে ঘুরিয়ে কবরস্থানে নিয়ে যান।
দাফনে উপস্থিত একজন চালক আরি পট্রেট রয়টার্সকে বলেন, 'আমরা খুবই হতাশ, বিশেষ করে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এবং পুলিশ প্রধানকে দেখে। এটি বর্বরতা।'
বিক্ষোভ চলাকালীন গ্রেপ্তার হওয়া ৬০০ জনকে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাকার্তা লিগ্যাল এইড।