টোকিওকে টপকে জনসংখ্যায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় শহর এখন জাকার্তা, দ্বিতীয় বৃহত্তম ঢাকা
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। শহরটি যেন এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের গল্প। এখানে তাকালে চোখে পড়ে আকাশচুম্বী চকচকে ভবন। ঠিক তার পাশেই হয়তো দাঁড়িয়ে আছে জরাজীর্ণ বস্তি। ধনী আর গরিবের এই সহাবস্থান শহরটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক রূপ।
শহরের সবচেয়ে উঁচু ভবন 'অটোগ্রাফ টাওয়ার' থেকে জাকার্তাকে দেখলে দম বন্ধ হয়ে আসতে পারে। জাতিসংঘের নতুন রিপোর্ট বলছে, জাকার্তা এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর। এখানে এখন প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষের বসবাস। দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, যার জনসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি। তৃতীয় স্থানে রয়েছে জাপানের রাজধানী টোকিও, জনসংখ্যা ৩ কোটি ৩০ লাখ।
শহরজুড়ে বিলাসিতা আর দারিদ্র্য যেন হাত ধরাধরি করে চলে। বিলাসবহুল কাঁচঘেরা অফিসের কয়েক মিটারের মধ্যেই গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিত বসতি। প্রতি বর্গকিলোমিটারে এখানে প্রায় ২২,০০০ মানুষ গাদাগাদি করে থাকে। আধুনিক দালানে যারা থাকেন, তাদের জীবন যতটা স্বাচ্ছন্দ্যের, সাধারণ মানুষের আবাসন সংকট ততটাই তীব্র।
এত মানুষের চাপে জাকার্তার বাতাস বিষিয়ে উঠেছে। রাস্তায় নামলেই ট্রাফিক জ্যাম। গাড়ির ধোঁয়ায় শহরের বাতাস ভারি হয়ে গেছে। বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রস্থলে বায়ুদূষণ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবুজের ছোঁয়াও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। স্যাটেলাইট তথ্যে দেখা গেছে, শহরের মাত্র ১৮ শতাংশ এলাকা এখন সবুজ। কংক্রিটের জঙ্গলে গাছপালা যেন হারিয়ে যাচ্ছে।
শহরে জন্মহার খুব বেশি না হলেও বাইরের মানুষ জাকার্তামুখী হচ্ছে। কাজের খোঁজে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে ভিড় জমায়। তবে জাকার্তার বিপদ শুধু মানুষের ভিড় নয়। জলবায়ু পরিবর্তন এই শহরের জন্য বড় হুমকি। মাটির নিচ থেকে অতিরিক্ত পানি তোলায় শহরটি ধীরে ধীরে ডুবছে। সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে, সেই সঙ্গে আছে অতিবৃষ্টির প্রকোপ। উপকূলীয় এলাকার মানুষরা তাই নিয়মিত বন্যার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্দোনেশিয়া সরকার একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা জাকার্তা ছেড়ে বোর্নিও দ্বীপে 'নুসান্তারা' নামে নতুন রাজধানী বানাচ্ছে। এটি হবে একটি স্মার্ট ও পরিবেশবান্ধব শহর। সেখানে থাকবে প্রচুর গাছপালা আর আধুনিক সব সুবিধা। তবে সমালোচকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, নতুন রাজধানী আসলে সরকারের ভাবমূর্তি বাড়ানোর কৌশল।
