জাতিসংঘের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট আব্বাসসহ ৮১ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার অংশগ্রহণ আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

আগামী মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে পারছেন না ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। প্রেসিডেন্ট আব্বাসসহ মোট ৮১ জন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে ফিলিস্তিনি নেতাদের বিরুদ্ধে শান্তি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করা এবং 'একটি কল্পনাপ্রসূত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের একতরফা স্বীকৃতি' চাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। যদিও সাধারণত, জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের যাতায়াতের সুবিধা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মনে করা হয়, এই ধরনের ভিসা বাতিল একটি অস্বাভাবিক ঘটনা।
উল্লেখ্য, ফ্রান্স যখন জাতিসংঘের আসন্ন অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এমন এক সময়ে এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এল । ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শুরু থেকেই এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে।
ফিলিস্তিনের জাতিসংঘ দূত রিয়াদ মনসুর এর আগে জানিয়েছিলেন যে, প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্ট আব্বাস নিউইয়র্কে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের বৈঠকে যোগ দেবেন। তবে, পরবর্তী সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান যে, প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রায় ৮০ জন সদস্যের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা হবে।
উল্লেখ্য, আব্বাস প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) প্রধানও বটে। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক ফোরামে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব করে। ১৯৭৪ সাল থেকে পিএলওর জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক সদস্যের মর্যাদা রয়েছে। তারা বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিতে পারলেও প্রস্তাবনায় ভোট দিতে পারে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও অবশ্য বলেছেন যে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মিশনে থাকা ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের সদর দফতর চুক্তি অনুযায়ী বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন। এই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়াবলী নিয়ন্ত্রণ করে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তটি উক্ত চুক্তির সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, বিদেশি কর্মকর্তাদের নিউইয়র্কে আগমন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাধাগ্রস্ত হবে না – সংশ্লিষ্ট সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক যেমনই হোক না কেন।
প্রেসিডেন্ট আব্বাসের কার্যালয় ভিসা বাতিলের এই সিদ্ধান্তে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এটি 'আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সদর দফতর চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন, বিশেষ করে যখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র জাতিসংঘের একজন পর্যবেক্ষক সদস্য।' ফিলিস্তিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ফ্রান্স ছাড়াও যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়াও আগামী মাসে সাধারণ অধিবেশনের বৈঠকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৭টি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
তবে, ফিলিস্তিনের কোনো স্বীকৃত সীমান্ত না থাকা, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা পশ্চিম তীরের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ এবং গাজাতেও একই ধরনের দাবির কারণে, একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বাস্তবে খুব বেশি পরিবর্তন আনবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।