যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের দূত উইটকফের বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যেই ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রেমলিনে বৈঠক করেছেন। খবর বিবিসির।
রুশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ বুধবারের এ বৈঠক তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এর আগে আজ সকালে উইটকফ রাশিয়ায় পৌঁছান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনে "ভয়ঙ্কর যুদ্ধ" বন্ধে উদ্যোগ না নেয়, তবে দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। পাশাপাশি, যারা রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করছে, তাদের ওপরও 'সেকেন্ডারি স্যাংশন' বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া কেবল তখনই শান্তির পথে পদক্ষেপ নিতে পারে, যখন দেশটির অর্থনৈতিক শক্তি ফুরিয়ে আসবে। কটাক্ষভরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কড়া নিষেধাজ্ঞা ও তেলের উপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটেই উইটকফ পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। রুশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, পুতিন ও উইটকফ সোনালি নকশা খচিত এক হলরুমে হাস্যোজ্জ্বল মুখে করমর্দন করছেন। এর আগেও তারা একাধিকবার বৈঠকে করেছেন।
যদিও শুক্রবারের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি হবে— এমন প্রত্যাশা কম। কারণ ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও রাশিয়া এখনো ইউক্রেনে আকাশপথে ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে।
ক্ষমতা গ্রহণের আগেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি একদিনেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে পারবেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি, বরং ট্রাম্প এখন রাশিয়া নিয়ে আরও কঠোর ভাষায় কথা বলছেন।
গত মাসে এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, "আগেও আমরা একাধিকবার মনে করেছি যুদ্ধ মিটে গেছে। এরপরও প্রেসিডেন্ট পুতিন আবার কিয়েভের মতো কোনো শহরে রকেট ছুড়ে নার্সিং হোমে থাকা নিরীহ মানুষ হত্যা করেন।"
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তিন দফা রাশিয়া-ইউক্রেন বৈঠক হলেও— তিন বছর ছয় মাস ধরে চলমান এই যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তা কোনো বাস্তব ফল বয়ে আনতে পারেনি।
যুদ্ধবিরতির জন্য রাশিয়ার সামরিক ও রাজনৈতিক শান্তিচুক্তির পূর্বশর্তগুলো এখনো ইউক্রেন এবং পশ্চিমা মিত্রদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি কিয়েভের পক্ষ থেকে পুতিনের সঙ্গে জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাবও বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে ক্রেমলিন।
এদিকে, মঙ্গলবার জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপের পর যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি অনুমোদন করেছে। আলোচনা হয়েছে যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও ড্রোন উৎপাদন নিয়েও।
বর্তমানে ইউক্রেন ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার জ্বালানি পরিশোধনাগার ও স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে, অপরদিকে মস্কো ইউক্রেনের শহরগুলোকেই আকাশপথে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
কিয়েভ শহরের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে শহরতইতে চালানো এক হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২ এ উন্নীত হয়েছে, একজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর এটি কিয়েভে যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলায় পরিণত হয়েছে।
এছাড়া ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের একটি হলিডে ক্যাম্পে রুশ বাহিনীর হামলায় দু'জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছে।
"এই হামলার কোনো সামরিক উদ্দেশ্য নেই। এটি নিছক নিষ্ঠুরতা, মানুষকে আতঙ্কিত করার জন্য," হামলার নিন্দা করে বলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
