‘এটা কি হাতের অঙ্ক যে আমরা ধরে নেব আমাদের বাবারা আর নেই?’
'গুম... এই শব্দটা অনেক ছোট, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে হাজারো হাহাকার, কষ্ট, কান্না। আমার ছোট থেকে একটাই স্বপ্ন যে আমি আমার বাবার সাথে স্কুলে যাব। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার এই স্বপ্নটা পূরণ হচ্ছে না।'
বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার অপূর্ণ স্বপ্নের কথা এভাবেই তুলে ধরে আদিবা ইসলাম হৃধি। তার বাবার নাম পারভেজ হোসেন। হৃধি জানায়, ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর তার বাবাকে শাহবাগ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র আড়াই বছর। এরপর আর খোঁজ মেলেনি বাবার। এখনও তার অপেক্ষায় তার পুরো পরিবার।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় সভায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলে সে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
'আমরা বিএনপি পরিবার' ও 'মায়ের ডাক'-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও খুনের শিকার পরিবারের সদস্যরা তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন।
বাবার ফিরে আসার আকুতি জানিয়ে হৃধি প্রশ্ন রাখে, 'আমার এই স্বপ্নটা কি আদৌ পূরণ হবে? আমার ভাই কি বাবার মুখটা দেখতে পারবে? এই স্বাধীন দেশে কি আমাদের বিচার হবে না? আমাদের বাবাদের কোথায়... আমাদের বাবাদের কেন গুম করা হয়েছিল?'
গুম কমিশনের উদ্দেশে সে বলে, 'গুম কমিশন বলে, ধরে নিন ওরা গুম... ওরা মৃত। কেন এটা কি হাতের অঙ্ক যে আমরা ধরে নেব আমাদের বাবারা আর নেই? একটা দল করা কোনো অপরাধ না। দল সবাই করে। এর জন্য এটা কেমন বিচার এই বাংলাদেশে?'
বক্তব্যের একপর্যায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে বাবাকে খুঁজে দেওয়ার আকুতি জানায় হৃধি। সে বলে, 'বছর যায়, নতুন বছর আসে কিন্তু আমাদের বাবারা আসে না। আমরা এই... একটা বছরের বেশি হয়ে গেল ৫ই আগস্টের পর, কিন্তু আমরা একজনকেও ফেরত পেলাম না।'
সে আরও বলে, 'আমি তারেক রহমান চাচ্চুর কাছে আশা করি যে আমাদের বাবাদের খুঁজে দেবেন। এই বাংলাদেশের মাটিতে বিচার করবেন এই গুমের।'
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ দলের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
