গুম কমিশন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনের কিছু ত্রুটি সংশোধনের প্রয়োজন আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গুম কমিশন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বর্তমান অধ্যাদেশগুলোর কিছু কারিগরি ও আইনি ত্রুটি সংশোধনের প্রয়োজন আছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫: নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা' শীর্ষক সংলাপে তিনি এ কথা জানান।
সালাহউদ্দিন বলেন, গুম কমিশনের যে আইনটি আমরা পেয়েছি, তাতে দুই-একটি ভুলভ্রান্তি বা অসঙ্গতি রয়ে গেছে, যা যাচাই করতে হবে।
তিনি বলেন, হয়তো যারা এটি প্রণয়ন করেছেন, তারা অত গভীরে যাননি, যদিও উদ্দেশ্য ভালো ছিল। বিশেষ করে 'সুপেরিওর লায়াবিলিটি' বা ঊর্ধ্বতনদের দায়বদ্ধতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কারা অন্তর্ভুক্ত হবে, সে বিষয়ে স্ক্রুটিনি প্রয়োজন। ভবিষ্যতে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনতে ধাপে ধাপে এগোতে হবে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী ১৩৩টির বেশি অর্ডিন্যান্স জারি করেছে। এর মধ্যে অনেকগুলো হয়তো আমরা গ্রহণ করতে পারব। কিন্তু বেশ কিছু অর্ডিন্যান্স রয়েছে যেগুলো বিস্তর আলোচনার দাবি রাখে। সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে সংসদে আমরা প্রতিটি বিষয় চুলচেরা বিশ্লেষণ করব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এসব অর্ডিন্যান্স পাসের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কিছু হয়তো ল্যাপস (বাতিল) হয়ে যাবে। তবে সংসদীয় রীতি-নীতি মেনে সেগুলো পরবর্তীতে বিল আকারে এনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাস করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা একটি সাংবিধানিক পদ্ধতির মধ্যে থাকতে চাই। কোনো কিছু ইমপোজ বা চাপিয়ে দেওয়া জাতির জন্য কখনো ভালো ফল আনে না।
মানবাধিকারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই মানবাধিকার আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাক। কিন্তু আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা মাথায় রাখতে হবে। এলজিবিটিকিউ বা পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে রাতারাতি পশ্চিমা মানদণ্ড বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আমাদের 'ব্রিদিং স্পেস' দিতে হবে এবং ধাপে ধাপে এগোতে হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, যুদ্ধে যারা শোষকের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা আর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে রাজাকারের মামলা দেওয়া একই কথা। তাই জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি বা সুরক্ষা দেওয়া আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার।
