এলো বিশ্বের ‘সবচেয়ে জটিল’ হাতঘড়ি: দেখায় ৩ রকমে সময় ও চাঁদ-তারার অবস্থান

এটি সূর্যের অবস্থান অনুসরণ করে। চারটি ছোট ঘণ্টায় হাতুড়ির আঘাতে শব্দ তোলে। এমনকি কখন নির্দিষ্ট কিছু নক্ষত্র পৃথিবী থেকে দেখা যাবে, তাও জানায়।
সুইস ঘড়ি নির্মাতা ভ্যাচেরন কনস্টান্টিনের নতুন মডেলের এই ঘড়িটি শুধু অভিনব ফিচারেই পরিপূর্ণ নয়, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত তৈরি করা সবচেয়ে জটিল যান্ত্রিক হাতঘড়ি।
ঘড়ির জগতে 'জটিলতা' বলতে সময় জানানোর বাইরের যে-কোনো অতিরিক্ত ফিচার বা বিশেষত্বকে বোঝায়, যেমন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার বা চাঁদের অবস্থান দেখানো। আর ভ্যাচেরন কনস্টান্টিনের নতুন 'লে কাবিনোতিয়ে সোলারিয়া আল্ট্রা গ্র্যান্ড কমপ্লিকেশন' মডেলে এমনই রেকর্ড ৪১টি ফিচার রয়েছে।
এটি বিশেষভাবে তৈরি একটি ঘড়ি, যা মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের 'ওয়াচেস অ্যান্ড ওয়ান্ডার্স' মেলায় প্রদর্শিত হয়। এতে মোট ১,৫২১টি আলাদা যন্ত্রাংশ রয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিজেদের অনন্য এই আবিষ্কার সুরক্ষিত রাখতে ১৩টি পেটেন্টের আবেদন করেছে, যার মধ্যে সাতটি ঘণ্টার শব্দ তৈরির যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ঘড়িটি সময় দেখানোর জন্য তিনটি পদ্ধতি ব্যবহার করে। প্রথাগত ২৪ ঘণ্টা সময়, সাইডেরিয়াল সময় (পৃথিবী তার অক্ষের চারপাশে ঘুরতে যে সময় নেয় এবং তা একটি ক্যালেন্ডার দিনের চেয়ে প্রায় চার মিনিট কম) এবং সৌর দিন (পৃথিবীর বক্রাকার কক্ষপথ অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়েছে)।

ঘড়িটির আরও জটিল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব, যা সূর্যের অবস্থান, উচ্চতা, গতি এবং পৃথিবীর বিষুবরেখার সাথে কোণ নির্ধারণ করে। এছাড়া এতে একটি চক্রাকার ডিসপ্লে রয়েছে, যা ১৩টি রাশিচক্রের নক্ষত্রমণ্ডল দেখায় এবং জানায়, কবে আকাশে ওই নক্ষত্রগুলো দৃশ্যমান হবে।
ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ঘড়িটি তৈরি করতে আট বছর সময় লেগেছে এবং এটিকে 'উদ্ভাবনের এক অসাধারণ কীর্তি' হিসেবে অভিহিত করেছে। অনন্য মডেলের এই ঘড়ির কেস ১৮ ক্যারেট সাদা সোনা দিয়ে তৈরি। এতে ২০০টিরও বেশি রত্ন রয়েছে, যার মধ্যে একাধিক নীলকান্তমণির চাকতি রয়েছে।
১৭৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং বর্তমানে বিলাসবহুল কোম্পানি রিচমন্টের মালিকানাধীন ভ্যাচেরন কনস্টান্টিনের সবচেয়ে জটিল পকেট ঘড়ি তৈরির রেকর্ডও রয়েছে।
একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘড়িটিকে 'ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ তৈরির এক কীর্তি' হিসেবে বর্ণনা করে ভ্যাচেরন কনস্টান্টিনের স্টাইল এবং হেরিটেজ পরিচালক ক্রিস্টিয়ান সেলমোনি বলেছেন, ব্র্যান্ডের ঘড়ি বিশেষজ্ঞরা ছোট ছোট যন্ত্রাংশগুলোকে 'সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত এবং সন্নিবেশিত উপায়ে' সাজিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, সব গুরুত্বপূর্ণ অংশ—সময়, ক্যালেন্ডার, ক্রোনোগ্রাফ এবং শব্দ—একটি প্লেটে একত্রিত করা এবং জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক কার্যাবলি আরেকটি প্লেটে রাখা। এইভাবে ঘড়িটি সুষম অনুপাতে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।'