মিয়ানমারে ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬০ ঘণ্টা পর এক নারীকে জীবিত উদ্ধার

মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি হোটেলের ধ্বংসস্তূপ থেকে সোমবার উদ্ধারকারী দল এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছে। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের উদ্ধারকর্মীরা আরও জীবিতদের খুঁজে বের করতে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন।
একটি উদ্ধারকারী দল মান্দালয়ের গ্রেট ওয়াল হোটেলের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬০ ঘণ্টা পর ওই নারীকে উদ্ধার করেছে বলে চীনা দূতাবাস এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নারীর অবস্থা স্থিতিশীল।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ২৩ হাজার মানুষকে ত্রাণ পাঠাচ্ছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রতিনিধী নোরিকো তাকাগি বলেন, "মান্দালয়ে আমাদের দলগুলো তাদের নিজস্ব ক্ষতির মধ্যেও ত্রাণ সহায়তা বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মিয়ানমারের এই বিশাল ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই বৈশ্বিক সমর্থন এবং সংহতির প্রয়োজন।"
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্যমতে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এর কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারের দ্বিতীয় বড় শহর মান্দালয় থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে।
এছাড়া, ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজধানী ব্যাংককে সোমবার উদ্ধারকর্মীরা একটি নির্মাণাধীন সুউচ্চ ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৬ জনকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা পুনরায় শুরু করেছেন।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের তিনদিন পরে আরও মৃতদেহ উদ্ধার হবে এবং এতে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে। থাইল্যান্ডে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অন্তত ১,৭০০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ২,০২৮-এ পৌঁছেছে।
ভারত, চীন এবং থাইল্যান্ডসহ মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলো ত্রাণ সামগ্রী এবং উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে। এছাড়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং রাশিয়া থেকেও সহায়তা ও কর্মী পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার-ভিত্তিক মানবিক সহায়তা সংস্থার মাধ্যমে ২ মিলিয়ন ডলার ত্রাণ প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ব্যাপক কাটছাঁটের শিকার হওয়া ইউএসএআইডি-এর একটি জরুরি দল মিয়ানমারে পাঠানো হচ্ছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের ফলে মিয়ানমার ইতোমধ্যেই বিশৃঙ্খলায় রয়েছে। এরপর ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ মিয়ানমারে আরও দুর্দশা তৈরি করেছে।
এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরও সেনারা গ্রামগুলোর ওপর বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করতে একটি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।
দেশটিতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন সেতু, মহাসড়ক, বিমানবন্দর ও রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানবিক কার্যক্রমের গতি ধীর হয়ে পড়েছে। এই সংকটের পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।