ইউক্রেনে জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রিত সরকার গঠনের প্রস্তাব পুতিনের

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তাব করেছেন, ইউক্রেনকে সাময়িকভাবে জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত, যাতে তারা আরও 'যোগ্য' একটি সরকার নির্বাচন করতে পারে। এটি কিয়েভ সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার জন্য পুতিনের সর্বশেষ প্রচেষ্টা। খবর বিবিসি'র।
ইউক্রেন পুতিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছে, তিনি শান্তি চুক্তির দিকে অগ্রগতি বিলম্বিত করতে 'পাগলাটে' প্রস্তাব দিয়েছেন এবং এর প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন রয়েছে।
তবে, হোয়াইট হাউজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইউক্রেনের শাসনব্যবস্থা তার সংবিধান এবং জনগণের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, দুই পক্ষ কৃষ্ণ সাগরে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছে।
কিন্তু এরপর রাশিয়া কিছু শর্ত দেয়। এর মধ্যে রাশিয়ার ওপর কিছু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি ছিল। এতে সন্দেহ দেখা দেয়, মস্কো হয়ত শান্তির পথে যেকোনো অগ্রগতি ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।
রাশিয়ার মুরমানস্ক শহরে একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পুতিন বলেছেন, জাতিসংঘের অধীনে একটি অস্থায়ী প্রশাসন নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে 'যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে এবং অবশ্যই আমাদের অংশীদার ও মিত্রদের সঙ্গে'।
পুতিন বলেন, 'এটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের জন্য হবে, যাতে একটি সক্ষম সরকার ক্ষমতায় আসে এবং যেটি জনগণের আস্থাভাজন হবে। তারপর এর মাধ্যমে শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করা এবং বৈধ নথি স্বাক্ষর করা হবে।'
মস্কো বলছে, বর্তমান ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ বৈধ নয়, কারণ প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ক্ষমতায় রয়েছেন। তাই যে কোনো চুক্তির জন্য তিনি বৈধ ব্যক্তি নন।
তবে, ইউক্রেনের আইন অনুযায়ী সামরিক আইন জারি থাকা অবস্থায় নির্বাচন করা সম্ভব নয়। এবং ৫০ লাখের বেশি বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিক বিদেশে উদ্বাস্তু এবং কয়েক হাজার মানুষ যুদ্ধে লড়াই করছেন। এমন পরিস্থিতিতে একটি বৈধ নির্বাচন আয়োজন প্রায় অসম্ভব।
পুতিন ইউক্রেনে নির্বাচনের আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে শান্তি আলোচনায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। এই মতামত হোয়াইট হাউজও সমর্থন করেছে।
যদি পুতিন চাপ প্রয়োগ করে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সফল হন, তবে তিনি হয়ত আশা করছেন, এটি সম্ভবত ইউক্রেনকে বিভক্ত ও বিভ্রান্ত করবে এবং তিনি যুদ্ধে লাভবান হবেন।
পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ পরবর্তীতে তার মন্তব্যগুলো পরিষ্কার করার চেষ্টা করে বলেন, এগুলো কিয়েভের 'নিয়ন্ত্রণ হারানোর' ইঙ্গিতের প্রতিক্রিয়ায় করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী নেতাদের আদেশ মানছে না এবং রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আঘাত করছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় তারা জ্বালানি অবকাঠামোতে আক্রমণ বন্ধ রাখার বিষয়ে একমত হয়েছিল।
ইউক্রেন রাশিয়ার এই আক্রমণের প্রতিবেদনগুলো মিথ্যা বলে অভিহিত করেছে এবং পাল্টা মস্কোর বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব কাঠামোতে আক্রমণ চালানোর অভিযোগ তুলেছে।
পুতিন বলেছেন, জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন তার একটি প্রস্তাব মাত্র এবং তিনি পূর্ব তিমুর ও সাবেক যুগোস্লাভিয়ার মত আন্তর্জাতিক উদাহরণ তুলে ধরেছেন।
জেলেনস্কির প্রধান কর্মকর্তা আন্দ্রিই ইয়েরমাক এর জবাবে বলেছেন, রাশিয়া শান্তি প্রচেষ্টায় বিলম্ব ঘটাচ্ছে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াটাই পছন্দ করছে।
পুতিন আরও দাবি করেছেন, রাশিয়া সম্মুখভাগে 'কৌশলগত উদ্যোগ' বজায় রেখেছে এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীকে হারাতে সক্ষম।
তবে যুদ্ধে অগ্রগতির ঘোষণা দিলেও, রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনে খুব ধীর গতিতে সীমিত পরিমাণ এলাকা দখল করতে পেরেছে।
বৃহস্পতিবার প্যারিসে জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যকার বৈঠকের পর পুতিন এই মন্তব্য করেন। বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ইউক্রেনে একটি 'নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বাহিনী' প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে।