অন্তত ৩০০ বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কো রুবিও

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদের দমনের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৩০০ বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছে। খবর বিবিসি'র।
রুবিও গায়ানা সফরের সময় সাংবাদিকদের বলেন, 'এ মুহূর্তে সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। আমরা এটা প্রতিদিন করছি। যখনই এরকম একজন উন্মাদকে খুঁজে পাই, তার ভিসা বাতিল করি।'
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব বক্তব্য প্রশাসন ইসরায়েলবিরোধী মনে করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে কত শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে– এমন প্রশ্নের জবাবে রুবিও এ কথা বলেন।
এ বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তুর্কি পিএইচডি শিক্ষার্থীকে আটক করেছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেই গ্রেপ্তারের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।
সম্প্রতি, তুরস্কের এক ডক্টরাল শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্কের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তিনি বোস্টনের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলেন। তার আইনজীবীর দাবি, ইফতারের সময় তাকে আটক করে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
মাস্ক ও সাদা পোশাক পরা অফিসাররা তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং এটি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) রুবিওর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ওই তুর্কি শিক্ষার্থীর ভিসা কেন বাতিল করা হয়েছে।
রুবিও বলেন, 'কারণটা খুব পরিষ্কার। আমি সব জায়গায় বলেছি, আবারও বলছি। যদি কেউ যুক্তরাষ্ট্রে আসার জন্য শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করে এবং বলে যে সে শুধু পড়াশোনা করতে নয়, বরং এমন আন্দোলনে অংশ নিতে চায় যা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর চালায়, শিক্ষার্থীদের হয়রানি করে, ভবন দখল করে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে– তাহলে আমরা তাকে সেই ভিসা দেব না।'
ওজতুর্কের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রুবিও ৩০ বছর বয়সী ওজতুর্কের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ জানাননি। তিনি ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন এবং গত বছর টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পত্রিকায় সহ-লেখক হিসেবে একটি মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়কে ইসরায়েল-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে এবং 'ফিলিস্তিনিদের গণহত্যা' স্বীকার করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
ওজতুর্কের আইনজীবী মাহসা খানবাবাই বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, 'দেশজুড়ে যে প্রবণতা আমরা দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে, তার মতপ্রকাশের অধিকার চর্চাই আটক হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।'
এই গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর সর্বশেষ উদাহরণ।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট প্রয়োগ করছেন। এর আইন পররাষ্ট্র দপ্তরকে এমন বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের অনুমতি দেয়, 'যাদের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর'।
এই গ্রেপ্তারগুলো ট্রাম্পের সেই প্রতিশ্রুতির অংশ, যেখানে মার্কিন প্রশাসন বিষয়গুলোকে 'অ্যান্টিসেমিটিজম' হিসেবে চিহ্নিত করে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। বিষয়টি জানুয়ারিতে একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আইনে পরিণত হয়।
এরপর থেকেই হোয়াইট হাউজ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বাতিল করেছে। প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের ক্যাম্পাসে অ্যান্টিসেমিটিজম ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। একই অভিযোগে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তহবিল বাতিলেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সর্বাধিক আলোচিত গ্রেপ্তারগুলোর মধ্যে রয়েছে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক মাহমুদ খলিলের ঘটনা। তিনি একজন বিশিষ্ট ফিলিস্তিনপন্থি কর্মী এবং বর্তমানে কোনো অভিযোগ গঠন ছাড়াই লুইজিয়ানার একটি আটককেন্দ্রে বন্দি রয়েছেন।