ফিলিস্তিনি কয়েদিদের মুক্তি চায় হামাস, অ-ইসরায়েলি বন্দিরা তাদের ‘অতিথি’
হামাসের একজন শীর্ষ নেতা সোমবার বলেছেন, সব ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলের জেলখানা থেকে মুক্ত করার জন্য 'যা প্রয়োজন', সেটি তাদের আছে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়ে দিলেন যে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্ত করার জন্য তারা ইসরায়েলি জিম্মিদের ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারেন।
হামাস কর্মকর্তা খালেদ মেশাল বন্দিদের নিয়ে মন্তব্য করার কিছুক্ষণ পরই গোষ্ঠীটির সশস্ত্র উইং আলাদাভাবে বলেছে যে তাদের কাছে আটক অ-ইসরায়েলিরা 'অতিথি'; 'পরিস্থিতি উপযোগী হলেই' তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক আক্রমণ করে হামাস। এতে ১ হাজার ৩০০-র বেশি ইসরায়েলি মারা গেছেন। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলছে, গাজায় হামাসের হাতে ১৯৯ জন জিম্মি আছেন। আর হামাস বলছে, তাদের হাতে আটক জিম্মির সংখ্যা ২০০ থেকে ২৫০ জন।
ইসরায়েলের জেলখানাগুলোতে বন্দি প্রায় ৬ হাজার ফিলিস্তিনিকে বিভিন্ন সময় মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে এসেছে হামাস।
হামাসের সাবেক প্রধান এবং বর্তমানে দোহায় ডায়াস্পোরা কার্যালয়ের প্রধান খালেদা মেশাল আলআরাবি টিভিকে বলেছেন, 'সব বন্দিকে মুক্ত করে জেলখানাগুলো ফাঁকা করে দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ জিম্মি প্রয়োজন', ততসংখ্যক জিম্মি আছে হামাসের হাতে।
২০১১ সালে ইসরায়েলি সেনা গিলাদ শালিতকে মুক্তির বিনিময়ে একশোর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দিকে খালাস করে দিয়েছিল ইসরায়েল। শালিতকে পাঁচ বছর আটকে রেখেছিল হামাস। এবারের ইসরায়েলি জিম্মিদের বিনিময়েও একই হারে ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছাড়িয়ে আনার আশা করছে হামাস।
ধারণা করা হচ্ছে, হামাসের হাতে আটক বন্দিদের মধ্যে থাইল্যান্ড ও জার্মানির নাগরিকও আছেন। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা অনেক ইসরায়েলিও হামাসের হাতে আটক হয়েছেন বলা ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার ফ্রাঙ্কো-ইসরায়েলি এক জিম্মি নারীর ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছে হামাস।
হামাসের সশস্ত্র উইংয়ের মুখপাত্র আবু ওবাইদা এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, হামাসের হাতে 'বিভিন্ন জাতীয়তার বন্দি আটক আছেন, তারা আমাদের অতিথি। তাদের আমরা রক্ষা করতে চাই।'
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি সহনীয় হলে বিভিন্ন জাতীয়তার নাগরিকদের ছেড়ে দেবেন তারা।
সোমবার হামাসের আরেক কর্মকর্তা মুসা আবু মারজুক বলেছেন, 'গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বোমা হামলার কারণে বিদেশি বন্দিদের ছাড়া যাচ্ছে না।'
এদিকে ইসরায়েলের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল হামলায় অন্তত ২ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১০ হাজার ৮৫০ জন আহত হয়েছে।
ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে গাজায় আটকে পড়া ২২ লাখ ফিলিস্তিনি সীমাহীন দুর্দশায় আছে। পানি, খাদ্য ও ওষুধের সরবরাহ সব শেষ হয়ে গেছে এ এলাকায়।
