ছবিতে হাকালুকি হাওর: বিস্তীর্ণ জলাভূমির তীরে জীবন–জীবিকা
হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি। মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলাজুড়ে বিস্তৃত এই হাওর অতিথি পাখি, বিরল প্রজাতির মাছ ও নানা জলজ উদ্ভিদের আবাসস্থল।
শীতকালে পাখির কলরবে মুখরিত থাকলেও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই জলাভূমি বর্তমানে নানা পরিবেশগত হুমকির মুখে রয়েছে।
হাকালুকি হাওর আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃত এবং পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষিত।
এই হাওরে বোরো ধান চাষের জন্য বীজতলা প্রস্তুত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমি কার্যক্রম। সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে, অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসে এই কাজ শুরু হয়। মূল জমিতে রোপণের আগে কৃষকেরা যত্নসহকারে প্রস্তুত করা বীজতলায় সুস্থ ও সবল বোরো ধানের চারা উৎপাদন করেন।
পরে পানির স্তর নিয়ন্ত্রণের পর এসব চারা মাঠে রোপণ করা হয়।
মৌসুমি বন্যায় জমে থাকা উর্বর পলি হাওরের জমিকে অত্যন্ত উৎপাদনশীল করে তোলে। সময়মতো বীজতলা প্রস্তুত হলে শক্ত চারা পাওয়া যায় এবং ফলনও ভালো হয়।
বোরো ধান চাষ স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাকালুকি হাওর এলাকার কৃষক পরিবারগুলোর আয়ের প্রধান উৎস।
এই হাওরে হাঁস পালন মৌলভীবাজার ও সিলেট অঞ্চলের জলাভূমি এলাকায় বসবাসকারী বহু পরিবারের একটি ঐতিহ্যবাহী ও টেকসই জীবিকা।
বিস্তৃত জলাভূমি, প্রাকৃতিক জলজ উদ্ভিদ, পোকামাকড়, শামুক ও ছোট মাছ হাঁসের জন্য পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্যের জোগান দেয়। এতে পালনের খরচ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।
বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী মৌসুমে হাজার হাজার হাঁস হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। দিনে তারা স্বাভাবিকভাবে খাদ্য সংগ্রহ করে এবং রাতে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়।
হাঁস পালন স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডিম ও মাংস সরবরাহের মাধ্যমে এটি নিকটবর্তী বাজারকে সমৃদ্ধ করছে এবং অনেক পরিবারের আয় বাড়াচ্ছে।
একইসঙ্গে এটি প্রান্তিক কৃষক ও নারীদের ক্ষমতায়নেও এর ভূমিকা রয়েছে, কারণ হাঁসের দৈনন্দিন পরিচর্যা ও ডিম সংগ্রহে তারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন।
লেখা ও ছবি: সৈয়দ জাকির হোসেন