বাজেট ছাড়িয়েছিল দ্বিগুণ: ‘লগান’ চলচ্চিত্র প্রযোজনায় যে বিপাকে পড়েছিলেন আমির খান
আমির খান অভিনীত এবং প্রযোজিত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র 'লগান'-এর বাজেট নির্ধারিত বাজেটের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির খান নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রটি নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে ১২ কোটি রুপি বাজেট ধরা হলেও, শেষ পর্যন্ত তা ২৫ কোটি রুপিতে গিয়ে পৌঁছায়।
২০০১ সালের এই ক্লাসিক বানানোর পেছনের এক গল্প শুনিয়েছেন আমির। পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর প্রথমে ২০০০ অতিরিক্ত শিল্পী চেয়েছিলেন। কিন্তু শুটিংয়ের দিন সকালে তিনি বেঁকে বসেন, তার নতুন আরও ১০০০ শিল্পী লাগবে!
পরিচালকের এমন দাবিতে প্রোডাকশন টিমের সবাই আমিরের ওপর ক্ষেপে আগুন। কারণ, বাড়তি শিল্পীদের জন্য তো খরচ হবেই, তার ওপর আগের ২০০০ শিল্পীকেও বসিয়ে রেখে পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছিল। এই হট্টগোলের কারণে শুটিংয়ের প্রায় অর্ধেক দিনই নষ্ট হয়।
আমির বলেন, "আমার তৎকালীন স্ত্রী রিনা দত্ত জিজ্ঞেস করেছিল, এখন কী হবে? আমি তখন মজা করে বলেছিলাম, চলো, ক্রিকেট খেলি!"
বাজেট বিড়ম্বনা
আমির অকপটে স্বীকার করেন, তিনি কখনোই বাজেটের মধ্যে থেকে সিনেমা বানাতে পারেন না। তার কথায়, "আমার সিদ্ধান্ত সবসময় নির্মাতার পক্ষে যায়। আমি বাজেটের হিসেব কষতে পারি না, এটাই আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। অন্য প্রযোজকরা এ ব্যাপারে খুব কঠোর থাকেন, কিন্তু আমি আজ পর্যন্ত বাজেটের মধ্যে থাকতে পারিনি।"
আমির আরও জানান, এখন তার প্রযোজনা সংস্থা 'আমির খান প্রোডাকশনস'-এর আর্থিক দিকগুলো দেখেন অপর্ণা পুরোহিত।
আমির জানান, তিনি মূলত প্রযোজক হয়েছিলেন এক প্রকার বাধ্য হয়েই। পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকরের ভাবনাকে যে কোনো ধরনের বাইরের হস্তক্ষেপ থেকে বাঁচানোই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। প্রযোজক হিসেবে তিনি হিন্দি সিনেমায় এমন অনেক নতুন জিনিস নিয়ে আসেন, যা আগে কেউ ভাবেনি। এর মধ্যে ওয়াকি-টকি, সহকারী পরিচালক কাঠামো, একনাগাড়ে শুটিং এবং সিঙ্ক সাউন্ডের মতো বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।
এমনকি নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রযোজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। আমির বলেন, "আমার মনে আছে, আগে শুটিং সেটে তেমন নিরাপত্তা থাকতো না। কিন্তু 'লগান'-এর শুটিংয়ের সময় আমি রনিত রায়কে নিরাপত্তার দায়িত্ব দিয়েছিলাম। আমাদের ১৫০ জন নিরাপত্তা কর্মী ছিল।"
