তেঁতুলিয়ায় আবারও অবৈধ পাথর উত্তোলনে ক্ষতিগ্রস্থ কাজী ফার্মসের জমি, ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা
জেল থেকে জামিনে বের হওয়ার পর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাহুক নদী থেকে আবারও অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন শুরু করেছে আবু তাহের নামের এক ব্যবসায়ী ও তার সহযোগীরা। উত্তোলন করা বালু-পাথর পরিবহনের জন্য কাজী ফার্মসের জমিতে জোর করে প্রবেশ করেছে চক্রটি। এ ঘটনায় নিজেদের জমি ক্ষতিগ্রস্থ করার অভিযোগে মামলা করেছে বেসরকারি কৃষি-শিল্প প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কাজী ফার্মসের প্রতিনিধি বোরহান নামের একজন বাদী হয়ে ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে এই মামলা দায়ের করেন। তেতুলিয়া থানার ওসি মো. লাইছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে আরও ৭০ জনকে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কাজী ফার্মসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা বালু-পাথর ব্যবসায়ী আবু তাহের ও তার সহযোগীরা ডাহুক নদী থেকে পাথর উত্তোলন ও পরিবহনের মাধ্যমে কাজী ফার্মসের ক্ষতি করেছে।
কাজী ফার্মসের অভিযোগ, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাটাপাড়া মৌজায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজী ফার্মের সীমানার পিলার ভেঙে ফেলে। পরে ওই পথ ব্যবহার করে ডাহুক নদী থেকে উত্তোলন করা বালু ও পাথর পরিবহন করা হচ্ছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
কাজী ফার্মসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২২ জুন ডাহুক নদী থেকে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ, পাথর ও বালু অবৈধভাবে উত্তোলনের অভিযোগে পুলিশ আবু তাহেরের বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। এছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভাঙচুরের অভিযোগে কাজী ফার্মের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা চলমান রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবু তাহের ও তার সহযোগীরা আবারও ডাহুক নদী থেকে বালু-পাথর উত্তোলন ও পরিবহন শুরু করেছেন। এতে দেশের অন্যতম বৃহৎ পোলট্রি প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মসের নিরাপত্তা ও সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পরিবহনের কারণে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আবু তাহেরের নেতৃত্বে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ডাহুক নদীর তলদেশ থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার অভিযোগ ও মামলা হলেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ করা যায়নি বলে দাবি তাদের।
কাজী ফার্মস পঞ্চগড়ের জেনারেল ম্যানেজার আহমেদ আলী বলেন, 'অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন এবং তা পরিবহনের কারণে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।'
তবে অভিযোগের বিষয়ে আবু তাহের কিংবা তার সহযোগীদের সাথে যোগযোগ করা সম্ভব হয়নি।
