রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে মারধর ও হামলার ঘটনায় রেলের ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে মারধর ও হামলার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন— পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা, পাকশী বিভাগীয় চিকিৎসক কর্মকর্তা, পাকশী বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পাকশী কমান্ড্যান্ট।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে রেলওয়ে কর্মচারী ও আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে আইয়ুব আলীকে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধ করেন। পরে তারা রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর চালান। কয়েক ঘণ্টা পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্টেশন ছেড়ে ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
আরও পড়ুন: রাবি শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে কর্মচারীদের 'মারধর', প্রতিবাদে রেলপথ অবরোধ, রেলস্টেশন ভাঙচুর
রোববার মধ্যরাতের দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে শতাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে রেললাইন ধরে হেঁটে রাজশাহী রেলস্টেশনে যান। সেখানে তারা ভাঙচুর শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে স্টেশনের কাচের প্যানেল, আসবাবপত্র, বেঞ্চ, দরজা-জানালা ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন। এ সময় ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টররা স্টেশনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আইয়ুব আলীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। তিনি তার চাচাকে আনতে স্টেশনে গিয়েছিলেন। এ সময় স্টেশনে থাকা অন্য দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, একপর্যায়ে আইয়ুব আলী প্রতিবাদ করে ওই শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বললে তাকে মারধর করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, আইয়ুব বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম জানিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজন রেলওয়ে কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
