১৭০টি ফুটবল মাঠের সমান বিশ্বের বৃহত্তম রেলস্টেশন চীনের চংকিং ইস্ট
চীনের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র চংকিংয়ে অবস্থিত চংকিং ইস্ট রেলস্টেশনটি আটতলা বিশিষ্ট। স্টেশনটি ১২ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বানানো হয়েছে। স্টেশনটি প্রায় ১৭০টি ফুটবল মাঠের সমান। আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের বৃহত্তম রেলস্টেশন।
চীনের চংকিংয়ের নানআন জেলায় অবস্থিত এই স্টেশনটি ২০২৫ সালের জুনে চংকিং–শিয়ামেন উচ্চগতির রেলপথের সঙ্গে চংকিং ইস্ট চিয়ানচিয়াং অংশ চালুর সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্রম শুরু করে। চীনা সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনের তথ্য অনুযায়ী, এই রেলপথে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের জন্য নকশা করা হয়েছে।
স্টেশনটিতে রয়েছে ২৯টি প্ল্যাটফর্ম এবং ১৫টি রেললাইন।
শিনহুয়া বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্টেশনটির আট তলা পর্যন্ত একটি বহুতল বিশিষ্ট ভবনএবং ব্যস্ততম সময়ে প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬ হাজার যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
স্টেশনটি চীনের বিস্তৃত উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের অংশ এবং এটি দক্ষিণ-পশ্চিম চীনকে বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংঝৌ, চেংদু ও শিয়ানের মতো প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
চংকিংকে ব্যাপকভাবে চীনের বিস্তৃত 'সাইবারপাঙ্ক' মহানগর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নাটকীয় বহুতলবিশিষ্ট '৮ডি (আট-মাত্রিক)' পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং ইয়াংসি নদীর প্রমোদভ্রমণের যাত্রা শুরুর কেন্দ্র হিসেবে শহরটি বিশেষভাবে পরিচিত।
সিচুয়ান হটপটের জন্মস্থান হিসেবে চংকিং খাদ্যরসিকদের কাছেও একটি প্রধান গন্তব্য। বিশেষ করে অঞ্চলটির ঐতিহ্যবাহী 'মালা' স্বাদের খাবার উপভোগ করতে বহু মানুষ সেখানে যান। এই স্বাদের বিশেষত্ব হলো ঝাল ও অবশ করে দেওয়া অনুভূতির অনন্য সংমিশ্রণ।
স্টেশনটির প্রধান প্রবেশদ্বার নির্মাণে সময় লেগেছে ৩৮ মাস এবং এতে মোট ব্যয় হয়েছে ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার।
স্টেশনটির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য হলো এটি একটি পূর্ণাঙ্গ 'চার-মাত্রিক' পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে, যেখানে একক কমপ্লেক্সের মধ্যে একাধিক পরিবহন নেটওয়ার্ককে একীভূত করা হয়েছে।
উচ্চগতির রেলসেবার পাশাপাশি স্টেশনটি মেট্রোরেল, বাস, ট্যাক্সি এবং দূরপাল্লার কোচ সেবার সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে যাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের পরিবহনের মধ্যে আরও সহজে যাতায়াত করতে পারেন।
স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক গত ১৮ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্টেশনটিকে নিয়ে প্রায় ছয় মিনিটের একটি ভিডিও শেয়ার করার পর এটি সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে।
ভিডিওটিতে স্টেশনটির বিশাল বহুতল কাঠামো, কাচের ছাদে আচ্ছাদিত বিস্তৃত হলঘর এবং সমন্বিত পরিবহন নেটওয়ার্ক তুলে ধরা হয়েছে। অনলাইনে ভিডিওটি পাঁচ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে।
ভিডিওটির নিচে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি মন্তব্যে লেখা হয়েছিল, 'ভবিষ্যতে স্বাগতম! বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে চীন।'
স্টেশনটি পরিচালনাগত দক্ষতা ও যাত্রীসেবার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী নকশা ব্যবহার করছে।