জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটকে ৫০০ থেকে ৭০০ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন দিল সরকার
দেশের একমাত্র বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জন্য অতিরিক্ত ২০০ বেড অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ৫০০ থেকে বেড়ে ৭০০ হবে। বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত এসব বেডে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, অর্থ বিভাগের সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালকে (এনআইসিআরএইচ) ৫০০ থেকে ৭০০ বেডে উন্নীত করা এবং বর্ধিত শয্যায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব বিধি-বিধান, আনুষ্ঠানিকতা ও নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে প্রতিপালনের শর্তে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এনআইসিআরএইচের পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ।
তিনি বলেন, 'তাই আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম, বিদ্যমান সক্ষমতার প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হলে বর্তমানে যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে আরও ২০০ বেড বাড়াতে পারব।'
তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালের কেবিন ব্লকটি বর্তমানে খালি রয়েছে। এ ছাড়া নতুন নির্মিত একটি ব্লকে ১০০ বেড ও ৩২টি কেবিন রয়েছে।
ডা. সুমন বলেন, 'এই সুযোগ-সুবিধাগুলো একসঙ্গে ব্যবহার করে আমরা প্রায় ২০০ রোগী রাখতে পারব।' তিনি বলেন, বেড কেনা, রোগীদের খাবারের খরচ এবং কিছু নিয়মিত পরিচালন ব্যয়ের জন্য তিনি সরকারের কাছে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
তবে হাসপাতালটির সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ রোগী বহির্বিভাগে সেবা নেন। ভর্তির প্রয়োজন রয়েছে—এমন অনেক রোগীকে একটি বেডের জন্য কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়।
৫০০ বেডের এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে ক্রমবর্ধমান ক্যান্সার রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের রোগীদের চাপ বেশি।
বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে আনুমানিক ১৩ থেকে ১৫ লাখ মানুষ বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত। প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ নতুন ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হয়। একই সময়ে বছরে প্রায় দেড় লাখ মানুষ এই রোগে মারা যায়।
ক্যান্সারের চিকিৎসা এখনো মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। নিম্ন আয়ের রোগীদের বড় একটি অংশ জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল।
