আগামী অর্থবছর থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আগামী অর্থবছর থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, 'স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি ও সমন্বয়ের অভাবের কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করা হবে।'
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এসময় মন্ত্রী বলেন, 'প্রশাসন, চিকিৎসক-নার্সসহ সেবাদানকারী এবং ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান—এই তিন পক্ষ যদি সৎ মানসিকতা নিয়ে একসঙ্গে কাজ না করে, তাহলে স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।'
ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, 'কিছু কোম্পানি নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন করলেও সেগুলো বাজারজাতের অনুমোদন পাচ্ছে। যেখানে ৭০ শতাংশ কার্যকর উপাদান থাকার কথা, সেখানে কম থাকলেও তা অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ভালো মানের ওষুধ উৎপাদনকারী কিছু প্রতিষ্ঠানকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।'
স্বাস্থ্যখাতে কেনাকাটায় দুর্নীতির বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'বড় বড় ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি একটি সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এমনভাবে শর্ত নির্ধারণ করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়। এভাবে আমরা নিজেরাই দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছি।'
তিনি আরও বলেন, 'সারা বিশ্বে হামের টিকার ২০টি ভেরিয়েন্ট থাকলেও আমাদের এখানে নির্দিষ্ট ভেরিয়েন্টের কথা লিখে দেওয়া হয়, যাতে বিশেষ কেউ লাভবান হয়। এভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।'
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'বিভাগীয় কেনাকাটায় দুর্নীতির যে পথগুলো রয়েছে, সেগুলো আমরা এখনও পুরোপুরি বন্ধ করতে পারিনি। তবে আশা করছি, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত করতে পারব। এ জন্য আমি চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাই।'
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও ওষুধের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'আমরা ডেঙ্গুর ওষুধ পরীক্ষা করে দেখেছি মান ঠিক আছে, কিন্তু স্প্রে করলে মশা মরে না। কারণ ওষুধে কেরোসিন বা পানি মিশিয়ে পাতলা করে ফেলা হয়।'
হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'হাসপাতালে রোগীদের যে খাবার দেওয়া হয়, তার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। খাবারে তেলাপোকা পাওয়া গেলে রোগ নিরাময়ের বদলে মানুষ আরও অসুস্থ হবে। এছাড়া হৃদরোগ হাসপাতালের ভেতরে হকারদের খাবার বিক্রি করার ভিডিও দেখা গেছে।'
তিনি বলেন, 'যত্রতত্র ব্যাটারি পোড়ানো ও কারখানার ধোঁয়ায় মানুষ ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। একদিকে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণে মানুষ পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে।'
করোনাকালে চিকিৎসকদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, 'আপনারা দক্ষ, আপনারা পারেন। কিন্তু নৈতিকতার সঙ্গে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। নৈতিকতার বিজ্ঞানকে পেশায় বিনিয়োগ না করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।'
