২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে এমপি শাহজাহানের পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. আরমান উদ্দিনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে।
গত রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা আক্তারের আদালতে লোহাগাড়ার আমিরাবাদের প্রবাসী আমির হোসেন এই মামলাটি করেন। বিষয়টি সোমবার (২৪ আগস্ট) জানাজানি হয়। আদালত বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করে মামলাটি তদন্তের জন্য সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—মো. আরিফ উদ্দীন, শওকত আলী, মো. আদিল, মো. আনোয়ার ও জয়নাল আবেদীন। এছাড়া মামলায় ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামি আরিফ উদ্দীন ও শওকত আলীসহ কয়েকজন আমির হোসেনের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। আমির হোসেন লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্স এলাকায় চারতলা ভবন নির্মাণ করে নিচতলায় দোকান এবং অন্য অংশে ভাড়াটে রেখেছেন। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। গত ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টার দিকে আসামিরা লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্স এলাকায় আমির হোসেনের মালিকানাধীন মার্কেটের নিচতলায় এক ভাড়াটের দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ওই সময় দোকান থেকে প্রায় ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা মূল্যের মালামাল এবং ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে দোকানের ওই অংশে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং ভবনের অন্য ভাড়াটেদের আসামিদের মাধ্যমে ভাড়া দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলে কর্তৃপক্ষ মামলা নেয়নি।
বাদীর দাবি, গত ২০ আগস্ট সকালে আসামিরা পুনরায় ওই মার্কেটে বৈঠক করেন। সেখানে আরিফ উদ্দীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছাড়বেন না বলে হুমকি দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় আরমান উদ্দিন মুঠোফোনের মাধ্যমে আমির হোসেনকে তাদের কথামতো চলার জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে জখম করেন এবং তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।
বাদী আমির হোসেনের আইনজীবী কবির জিলান বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের এএসপিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আমির হোসেনের দাবি, ঘটনার পর তিনি লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ মামলা নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলে গেলেও পরে মামলা নেয়নি। এ কারণে তিনি আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন।
তবে থানায় অভিযোগ করার বিষয়টি অস্বীকার করে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, 'এমন কোনো ঘটনা নিয়ে কেউ থানায় মামলা করতে আসেননি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আদালতে মামলার বিষয়েও আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।'
এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে এমপির পিএস আরমান উদ্দিন টিবিএসকে বলেন, 'আমি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে গত ৭ আগস্ট থেকে সৌদি আরবে অবস্থান করছি। ২০ আগস্ট বাংলাদেশে উপস্থিত থেকে বাদীর সঙ্গে বৈঠক করার প্রশ্নই আসে না। বাদীকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনিও না। আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিষয়টি তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।'
