এসএসসির ফলের ভিত্তিতেই একাদশে ভর্তি, ২ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন শুরু
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারও কোনো আলাদা বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। কেবল এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির চূড়ান্ত নীতিমালায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আজ ২৪ আগস্ট (সোমবার) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহান স্বাক্ষরিত এই নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, একাদশে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে আগামী ২ সেপ্টেম্বর। প্রাথমিক আবেদনের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক সিলেকশন নিশ্চায়ন করতে হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তির কাজ শেষ করতে হবে। সারা দেশে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, কলেজের মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এই কোটা ব্যবস্থা কেবল ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্যই কার্যকর হবে।
এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের বছর এবং তার আগের ধারাবাহিক দুই বছরে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি বোর্ড থেকে সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সনদের মান নির্ধারণের পর ভর্তির যোগ্যতা বিবেচনা করা হবে।
সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে মোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে। বিজ্ঞান বিভাগে সমান নম্বরের ক্ষেত্রে সাধারণ গণিত এবং উচ্চতর গণিত অথবা জীববিজ্ঞানের নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপরও সমতা থাকলে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর দেখা হবে। একইভাবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সমান নম্বর হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে।
একাদশে ভর্তির সব কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হবে। কলেজগুলোকে আগেভাগেই আসনসংখ্যা, ভর্তি ফি ও ন্যূনতম যোগ্যতাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। অনুমোদিত ফির অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না। বেসরকারি কলেজগুলোকে ভর্তি শুরুর আগেই সব ধরনের খরচের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, নীতিমালা লঙ্ঘন করে কোনো প্রতিষ্ঠান ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করলে ওই বেসরকারি কলেজের পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতি এবং এমপিও বাতিল করা হতে পারে। একই অপরাধে সরকারি কলেজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
