নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতসহ ৩ দাবিতে চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের মানববন্ধন
নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় কার্যকর জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন করেছেন চিকিৎসকেরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানের ওপর হামলা এবং সারাদেশে চিকিৎসকদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ক্যাম্পাসে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বিসিএস (স্বাস্থ্য) চিকিৎসক ফোরামের চট্টগ্রামে কর্মরত অর্ধশতাধিক চিকিৎসকসহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকেরা অংশ নেন।
চিকিৎসকেরা বলেন, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ চিকিৎসা পেশায় আসেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ না থাকলে তাঁদের মেধা ও দক্ষতার সর্বোচ্চ ব্যবহার সম্ভব নয়। চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতার প্রভাব শেষ পর্যন্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবার ওপরও পড়ে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনিসুল হোসেন বলেন, 'রোগীরা চিকিৎসকের কাছে একজন মানবিক চিকিৎসক প্রত্যাশা করেন। কিন্তু সেই চিকিৎসকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তিনি কীভাবে রোগীদের মানবিকভাবে সেবা দেবেন, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।'
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগকে একটি নির্দিষ্ট মানে নিয়ে যেতে হলে চিকিৎসকদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিতে হবে। তাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।'
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে উল্লেখ করে তিনি চিকিৎসক সুরক্ষা আইনসহ প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিমউদ্দিন বলেন, 'চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্ক পারস্পরিক নির্ভরতার। কিন্তু কথায় কথায় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাদের ওপর হামলা ও নিগ্রহ করা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।'
তিনি বলেন, 'রোগী থাকলে ডাক্তার থাকবে, ডাক্তার থাকলে রোগী থাকবে। কিন্তু একটি সভ্য দেশে ডাক্তার-রোগীর সম্পর্ক এমন পর্যায়ে যাবে, তা আমরা চিন্তাও করতে পারি না।'
অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জসিমউদ্দিন বলেন, 'তাঁর মতো একজন নিরীহ, সদালাপী ও ভদ্র মানুষের ওপর হামলার ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের কোনো চিকিৎসকই এখন নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারেন না।'
হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
অধ্যাপক জসিমউদ্দিন বলেন, চিকিৎসক সুরক্ষা আইনের পাশাপাশি রোগী সুরক্ষা আইনও প্রণয়ন করা প্রয়োজন। চিকিৎসক ও রোগী—উভয়ের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চিকিৎসকেরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আন্দোলন করতে চান না; তাঁরা হাসপাতালে থেকে রোগীদের সেবা দিতে চান। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হলে তাঁরা আরও মনোযোগ ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
তারা বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি হাসপাতালকে নিরাপদ কর্মস্থলে পরিণত করতে হবে এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় কার্যকর জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু চিকিৎসকদের স্বার্থের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকারও জড়িত। তাই চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করে নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
