রাজধানীর বাজারে ডিমের ডজন ১৫০ টাকা, মাছ-সবজিতেও চরম অস্বস্তি
আজিমপুরের বাসিন্দা শামীমের পাঁচ সদস্যের পরিবার। পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে তিনি খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন ডিম রাখেন। কিন্তু বাজারে ডিমের বাড়তি দাম দেখে এখন আগের তুলনায় কম ডিম কিনছেন তিনি।
সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে ডিমের দাম ডজনে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও বাজারে এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। এখন সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। ডিমের পাশাপাশি বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার ওপরে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
ডিমের দাম বাড়ার বিষয়ে নিউমার্কেটের বিক্রেতা তারেক বলেন, 'আমরা প্রতি ডজনে ২ থেকে ৬ টাকা লাভ করি। পাইকারিতে এখন দাম বেশি। বন্যা ও বিদ্যুৎ সংকটে অনেক মুরগি মারা যাচ্ছে। এ কারণে দামও বেড়েছে।'
উত্তাপ ছড়াচ্ছে সবজির বাজারেও। বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। সরবরাহ কম থাকায় কিছু সবজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা পর্যন্ত। তবে মৌসুম না হওয়ায় বাজারের সবচেয়ে দামি সবজি এখন শিম, যা প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা সাদমান বলেন, 'এক কেজি করে কয়েক ধরনের সবজি কিনলেই ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা চলে যাচ্ছে। মাছ-মাংসের সঙ্গে সবজির বাজার সামলানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছু সবজির দাম কমেছে, কিন্তু বেশির ভাগ এখনো ৮০ টাকার আশপাশে।'
সবজি বিক্রেতা মহিন বলেন, 'আমরা যে দামে কিনি, তার সঙ্গে সামান্য লাভ যোগ করে বিক্রি করি। আড়তে দাম বেশি থাকলে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। বেশি দাম দিয়ে কেউ সবজি কিনতে চায় না, আমরাও চাই না।'
সবজির দাম চড়া থাকলেও কাঁচা মরিচে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত সপ্তাহে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি পটল ৭০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি গোল বেগুন ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা, কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ টাকা এবং কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মুরগি ও মাংসের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৯০ টাকা, সোনালি ৩২০-৩৩০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ টাকা এবং লেয়ার ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া গরুর মাংস ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি মিলছে না ক্রেতাদের। পুকুরে চাষ করা পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির দাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ওজনভেদে রুই ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে।
মাছ কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, 'পাঙাশ মাছ আগে ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হতো। এখন ২০০ টাকার নিচে নেই। আর তেলাপিয়া তো কয়েক মাসের ব্যবধানে ৬০ টাকা বেড়েছে। তেলাপিয়া ২৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।'
