সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি, বেড়েছে আটা-ময়দার দাম
রাজধানীর খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনো কাটেনি। অনেক মুদি দোকানেই মিলছে না তেল। দু-একটি দোকানে পাওয়া গেলেও সেখানে মূলত ২ ও ৫ লিটারের বোতল রয়েছে। আধা লিটার ও এক লিটারের বোতল নেই বললেই চলে।
এর মধ্যে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে।
পাশাপাশি বেড়েছে আটা ও ময়দার দাম। অন্যদিকে সবজির বাজারে কয়েকটি পণ্যের দাম চড়া থাকলেও ডিম ও কয়েক ধরনের মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। মাছের বাজার রয়েছে প্রায় স্থিতিশীল।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
তেলের সরবরাহে এখনো সংকট
খুচরা বিক্রেতা ও তেলের পাইকারি সরবরাহকারীরা জানান, সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। এরপরও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল কম ছাড়ছে বলে জানান তারা।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, বাজারে আধা লিটার ও এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ খুবই কম। পরিবেশকদের কাছে বারবার তাগাদা দিয়েও তেল পাচ্ছেন না তারা।
বর্তমানে মাত্র দু-তিনটি কোম্পানি বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ করছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তাও মূলত ২ ও ৫ লিটারের বোতলে।
ফলে তেল কিনতে ক্রেতাদের একাধিক দোকান ঘুরতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী তেলও পাওয়া যাচ্ছে না।
নিউমার্কেটের ক্রেতা ফরিদ বলেন, "আমার এক লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল লাগত। কয়েক দোকান ঘুরেও তা পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে দুই লিটারের বোতল কিনেছি। যে কারণে অন্য সদাই না নিয়েই বাড়ি ফিরছি।"
বিক্রেতারা বলছেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকটে সাধারণ ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে অনেক বিক্রেতা এখন খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি শুরু করেছেন।
এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়েছে। ফলে ২ লিটার তেল কিনতে ক্রেতাকে ৪০৮ টাকা এবং ৫ লিটারের জন্য ১ হাজার ২০ টাকা গুনতে হচ্ছে।
বেড়েছে আটা-ময়দার দাম
তেলের পাশাপাশি বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে আটা ও ময়দার দাম। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনন্দিন বাজারদরের তালিকাতেও আটা ও ময়দার দাম বাড়ার তথ্য রয়েছে।
টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে।
তবে বাজারে এর চেয়েও কিছুটা বেশি দামে আটা-ময়দা বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিক্রেতাদের হিসাবে, খুচরা পর্যায়ে গত এক মাসে প্রতি কেজি খোলা আটার দাম ৫ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম ১০ টাকা বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুদি দোকানগুলোয় প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে এর দাম ছিল ৪৫ টাকা। খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। মাসখানেক আগেও এর দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কজাত আটা ও ময়দাও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে দুই কেজির এক প্যাকেট ময়দা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। এক মাস আগে এক কেজি মোড়কজাত ময়দার দাম ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।
নিউমার্কেটের মুদি দোকানি মিরাজ আহমেদ বলেন, "আগে ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দা ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনেছি। গত সপ্তাহে দাম বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা। এভাবে পাইকারি ও ডিলার পর্যায়ে আগের চেয়ে আটা-ময়দার দাম বেড়েছে। ফলে আমাকেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।"
কিছুটা কমলেও সবজির বাজারে চড়া কয়েকটি পণ্য
সবজির বাজারে কয়েকটি পণ্যের দাম এখনো বেশ চড়া। বাজারে প্রতি কেজি শিম ২৪০ টাকা, গোল বেগুন ১৪০ টাকা এবং টমেটো ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও বেড়ে ২০০ টাকা কেজিতে উঠেছে।
এ ছাড়া বরবটি ১০০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা ৮০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা কেজি, লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা পিস, জালি ৫০ টাকা পিস এবং কাঁচা কলা ৪০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে, প্রতি কেজি ৩০ টাকা।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হাফিজ উদ্দিন বলেন, "আজ বাজারে এসে দেখছি সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে সবজির দাম বেড়েছে। বেশির ভাগ সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কিছু কিছু সবজি ৬০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। তবে ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরের সবজির সংখ্যাই বেশি।"
নিউমার্কেটের সবজি বিক্রেতা তারেক বলেন, "বৃষ্টির কারণে সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমেছে। এ কারণে সবজির দাম কিছুটা বাড়তি যাচ্ছে। বৃষ্টি শেষে আবহাওয়া ভালো হলে আবার সবজির দাম কমে আসবে।"
তিনি বলেন, "আজকের বাজারে সবচেয়ে দামি সবজি শিম, প্রতি কেজি ২৪০ টাকা। শিমের মৌসুম এখনো ভালোভাবে শুরু হয়নি, এ কারণে দাম বাড়তি। এ ছাড়া গোল বেগুনের দামও বেশি। বাকি সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কিছু সবজি ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।"
কমেছে ডিম ও কয়েক ধরনের মুরগির দাম
সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা।
মুরগির বাজারেও কয়েক ধরনের মুরগির দাম কমেছে। ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের মতোই প্রতি কেজি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে।
বর্তমানে সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে; প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।
মাছের বাজার প্রায় স্থিতিশীল
মাছের বাজারে দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে কোনো কোনো মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে, আবার কিছু মাছের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে।
পুকুরে চাষ করা পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি কই ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাষের কই ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
