সিলেটে চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসির খাতা দেখছিলেন শিক্ষক, বস্তাভর্তি উত্তরপত্র জব্দ
সিলেটে চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগে অভিযানে নেমে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক বস্তা উত্তরপত্র জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এ ঘটনায় মহানগরের জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল হোসেন সোহান সিলেট মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন ছাত্র।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাবিপ্রবির প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকানে অভিযান চালান শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন। দোকানে বসে বন্ধুদের সাথে নিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় সেখান থেকে এক বস্তা উত্তরপত্র জব্দ করেন তিনি। পরে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অভিযুক্ত শিক্ষককে জালালাবাদ থানায় নেওয়া হলে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, 'উনি (ইকবাল হোসেন সোহান) আমাদের পরীক্ষক। পরীক্ষার উত্তরপত্রগুলো বাসায় বসে দেখার কথা ছিল। কিন্তু তিনি পাবলিক প্লেসে বন্ধুদের নিয়ে বসে খাতা দেখছিলেন। খবর পেয়ে আমরা রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে খাতাগুলো উদ্ধার করি।'
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, 'এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।'
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বলেন, 'এ ঘটনায় শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। উত্তরপত্রগুলো বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিয়ে গেছে।'
এদিকে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু শনিবারই নয়, আগের রাতেও একই স্থানে কয়েকজন মিলে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ চালিয়েছেন। এমনকি পরীক্ষকের বাইরে অন্যদের হাতেও খাতা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।
