সিলেটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন মহানগর বিএনপির
সিলেটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে মহানগর বিএনপি।
আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরভবনে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতা অংশ নেননি। সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
এ রিপোর্ট লেখার সময় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলছিল।
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বর্জন প্রসঙ্গে মহানগর বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে মহানগর বিএনপির কোনো নেতার সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক একক সিদ্ধান্তে এটি আয়োজন করেছেন। এছাড়া, এতে নেতাদের যথাযথভাবে আমন্ত্রণও জানানো হয়নি।
তারা জানান, আজ রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারতের সময় মহানগর বিএনপি নেতাদের জন্য এমন একটি গাড়ি দেওয়া হয়, যেটির মাজার এলাকার ভেতরে প্রবেশের পাস ছিল না। ফলে গাড়িটি মূল সড়কেই আটকে দেয় নিরাপত্তাবাহিনী। সিনিয়র নেতাদের হেঁটেই মাজারে যেতে হয়। এসব কারণে আমরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাচ্ছি না।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, 'নানা কারণে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অংশ নেবে না। কারণগুলো এখনই বলছি না। তবে সংবর্ধনা ছাড়া রাষ্ট্রপতির বাকি সব অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নিয়েছি।'
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, 'যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি তৈরি করে সংবর্ধনা আয়োজন না করা এবং অনুষ্ঠানের আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে।'
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিকি) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে সোমবার তিনি বলেছিলেন, 'সংবর্ধনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমরা নাগরিক সমাজসহ নানা স্তরের নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলেছি।'
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এটি প্রথম সিলেট সফর।
আজ সকালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। সার্কিট হাউজে স্বল্প বিরতির পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের দরগাগেইট এলাকায় সুফিসাধক হযরত শাহজালাল (র.) -এর মাজার জিয়ারত করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখানে তিনি দেশ ও জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন।
হযরত শাহজালাল (র.) -এর মাজার জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি সরাসরি রওনা দেন সিলেটের খাদিম নগরে হযরত শাহ পরান (র.)-এর মাজারের উদ্দেশে। সেখানে রাষ্ট্রপতি হযরত শাহ পরান (র.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং যোহরের নামাজ আদায় করেন।
এদিকে, সিলেটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনাস্থল বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়ে। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে নগর ভবনের সংর্বধনাস্থলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিদ্যুৎ ছিল না। তবে তখনও রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছাননি।
বেলা পৌনে ৩ টার কিছু আগে হঠাৎ নগর ভবনের বিদ্যুৎ চলে যায়। অন্ধকার হয়ে পড়ে মঞ্চ। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। পরে বিদ্যুৎ আসে।
তবে এটি কোনো লোডশেডিং ছিল না বলে জানিয়ছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন।
তিনি বলেন, 'রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে লোডশেডিং করার তো প্রশ্নই আসে না। এটি অন্য কোনো গোলোযোগের কারণে হতে পারে।'
তিনি বলেন, 'রাষ্ট্রপতি আসায় আজ সিলেটে কোনো লোডশেডিং নেই। তবে লো ভোল্টেজের কিছু সমস্যা আছে। সেটিও আমরা ঢাকার সঙ্গে কথা বলে সমাধান করেছি।'
