ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু: আসামি প্যারা পনিসহ ৩ জন কারাগারে
রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে সড়কে পড়ে প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীনের (৫৬) মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি মো. পনি ওরফে প্যারা পনি ওরফে পনি গাজীসহ তিন জনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন। অপর আসামিরা হলেন, সেড্রিক জুলিয়ান (২৪) এবং মো. রাকিব হোসেন (২৪)।
ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শাহিন আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছিলেন। এ সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আবেদন ছিল না। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এর আগে, গত ৩১ আগস্ট আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।
রনজিলা পারভিন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি গাবতলী উপজেলার তরফসরতাজ গ্রামে। তাঁর স্বামী আবদুল মতিন বগুড়া শহরের নিউমার্কেট এলাকায় পোশাকের ব্যবসা করেন। ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে তাকিয়া আকতার রাইসা।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বগুড়া থেকে বাসে করে ঢাকায় আসেন রনজিলা পারভিন ও তার স্বামী আবদুল মতিন। ভোরে কল্যাণপুর টার্মিনালে বাস থেকে নেমে তাঁরা অটোরিকশায় করে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের সড়কে আসতেই একটি মোটরসাইকেলে করে এসে পেছন থেকে ব্যাগ ধরে টান দেয় ছিনতাইকারীরা।
এ ঘটনায় রনজিলা পারভিন অটোরিকশা থেকে নিচে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। সঙ্গে থাকা স্বামী তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আবদুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
