রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের
অতীতের মতো ভবিষ্যতেও রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর।
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) পরিদর্শনকালে সার্জিও গোর এবং তার সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদলের কেউ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে বিকেলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
এসময় তিনি বলেন, 'গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গাদের সহায়তার পরিমান অনেক কমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর আশার সঞ্চার করেছে। সরেজমিন পরিদর্শনে আসা সার্জিও গোরের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের ১৪ সদস্যের মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাথে ক্যাম্প সংশ্লিষ্টদের বৈঠক হয়েছে। যেখানে সহায়তার আশ্বাস দেন প্রতিনিধিদলের প্রধান।'
এদিন বেলা ১২টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছায় মার্কিন প্রতিনিধি দলটি।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের নেতৃত্বাধীন উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতও ছিলেন।
কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে রওনা দেন। দুপুর দেড়টার দিকে উখিয়া উপজেলা সদরে পৌঁছে নর্থ এন্ড ক্যাফেতে চা-বিরতিতে অংশ নেন তারা। পরে দুপুর ২টার দিকে প্রতিনিধি দলটি উখিয়ার ৮-ডব্লিউ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছায়। ক্যাম্পটির ওয়াচ টাওয়ার থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। প্রায় ২০ মিনিট সেখানে পর্যবেক্ষণ শেষে ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) পরিচালিত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় তারা হাসপাতালের রোগী, নার্স ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দলটি উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) পরিচালিত নিবন্ধনকেন্দ্র পরিদর্শনে যায়। সেখানে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করেন। পরে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উখিয়ার ৪-এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) পরিচালিত খাদ্য বিতরণকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সার্বিক পরিদর্শন শেষে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে উখিয়া উপজেলা সদরের নর্থ এন্ড ক্যাফেতে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
বৈঠক শেষে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, 'রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ দাতা দেশ হিসেবে সহায়তা করে আসছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া অনুদানগুলো কিভাবে রোহিঙ্গাদের সহায়তা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে তা সরেজমিন দেখতে মার্কিন প্রতিনিধি দলের এই সফর। ক্যাম্পে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।'
এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফরকে ঘিরে স্বদেশে ফিরতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের তত্ত্বাবধানে মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা। এসময় তারা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে বিভিন্ন দাবি জানান।
রোহিঙ্গারা বলছেন, নিরাপত্তার সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা পেলে তারা স্বদেশে ফিরে যাবেন। এদিন সন্ধ্যায় প্রতিনিধি দলটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
