বাংলাদেশ-যক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: মার্কিন দূত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার বলেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত যে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে দুই দেশ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর বাংলাদেশে তার প্রথম সরকারি সফর শেষে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে সার্জিও গর লিখেছেন, 'বাংলাদেশে আমার প্রথম সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করতে পেরে ভালো লেগেছে। অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ কোনো একক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সব বিষয়েই এবং সব পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আর দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।'
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষ সহকারী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনও উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈঠকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এতে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয় উঠে এসেছে। উভয়পক্ষই সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তিনি বলেন, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার উপায় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তার মতে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন অত্যন্ত ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে এবং ইতোমধ্যে অর্জিত সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা হবে।
বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, অভিবাসনসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পৃক্ততার সামগ্রিক দিকনির্দেশনাও উঠে আসে।
জ্বালানি খাতের বিষয়ে তিনি জানান, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা ইতোমধ্যেই চলমান রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট সমাধানে বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থনও বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে। তার মতে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট বৈঠকের ওপর নির্ভরশীল নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
উল্লেখ্য, তিন দিনের সফরে আজ বিকেলে ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গর। এই সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এছাড়া কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের যাবেন তিনি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মনে করেন, এই সফর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাও আরও শক্তিশালী হবে।
