Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Saturday
October 10, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
SATURDAY, OCTOBER 10, 2026
আদালতের চত্বরেই কাটে দশকের পর দশক, মিলছে না বিমা দাবি

অর্থনীতি

রেজাউল করিম
31 July, 2026, 07:00 pm
Last modified: 31 July, 2026, 07:03 pm

Related News

  • ট্রাম্পের সেই ভাইরাল স্যুট কি বাংলাদেশে তৈরি? 
  • গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে সব আলোচনা যৌথ নদী কমিশনের অধীনেই: ভারত
  • ভারতে রপ্তানি বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ
  • সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় বাংলাদেশের নিন্দা
  • বাংলাদেশ-নেপালের মতো ‘নৈরাজ্য’ সৃষ্টির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

আদালতের চত্বরেই কাটে দশকের পর দশক, মিলছে না বিমা দাবি

সুপ্রিম কোর্টের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হাইকোর্টে অগ্নি, ঝুঁকি এবং নৌ-বিমা দাবি সংক্রান্ত মোট ৭১৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিপূরণের দাবিতে গ্রাহকদের করা মামলা এবং বিমা দাবি আটকানোর লক্ষ্যে বিমা কোম্পানিগুলোর করা রিট।
রেজাউল করিম
31 July, 2026, 07:00 pm
Last modified: 31 July, 2026, 07:03 pm
ইনফোগ্রাফিক: টিবিএস

ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের পাইকারী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের 'মের্সাস ফেমাস এন্টারপ্রাইজ' ব্যবসার (গোডাউন ও শোরুম) ‍আর্থিক নিরাপত্তার জন্য মার্কেন্টাইল  ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে ঝুঁকি বিমা পলিসি গ্রহণ করেছিল। দোকান ও গুদামে রক্ষিত মজুত মালামালের বিমাকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর ভোরে তাদের দোকান ও গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে সেখানে সংরক্ষিত বৈদ্যুতিক পণ্য, কেবল, পাইপসহ অন্যান্য মজুতকৃত মালামাল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটি তখন বিমা কোম্পানি এবং অর্থায়নকারী ব্যাংককে অবহিত করে।

এই ঘটনা তদন্ত ও ক্ষতি ইন্সুরেন্স কোম্পানিটি পৃথক দুই প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়। ওই প্রতিষ্ঠান দুটি পৃথক তদন্ত ও অডিট প্রতিবেদনে ৫ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি নিরুপণ করে।কিন্তু বিমা কোম্পানিটি পরর্তীতে ওই ক্ষতির টাকা পরিশোধে আপত্তি জানায়।

এরপর মের্সাস ফেমাস এন্টারপ্রাইজ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে অভিযোগ দাখিল করে। আইডিআর-এর আরবিট্রেশন বা সালিশি বোর্ড সেই অভিযোগ নিষ্পত্তি করে, ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল বিমা কোম্পানিকে বিমা দাবি পরিশোধ করতে নির্দেশ দেয়। একইসাথে এই দাবির জন্য সিডিউলড ব্যাংক নির্ধারিত হারে সুদ পরিশোধ করতে বলে।

কিন্তু মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে চলতি বছরের ১৭ জুন হাইকোর্ট আইডিআরএ-র সালিশি বোর্ডের সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। সেই সাথে আদালত আইডিআরএ-র আদেশের দিন থেকে হাইকোর্টের রায়ের দিন পর্যন্ত ৫.০৯ কোটি টাকার ওপর প্রচলিত ব্যাংকিং হারের সুদসহ— ৬০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের জন্য বিমা কোম্পানিকে নির্দেশ দেন।

তবে মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্সের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, তারা হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করবেন।

মের্সাস ফেমাস এন্টারপ্রাইজের আইনজীবী মো. তানভীর নাহিয়ান বলেন, প্রায় দশ বছর সময় ব্যয় হয়েছে হাইকোর্টের এই রায় আসতে। এর আগে আরো দুই বছরের বেশি সময় ব্যয় হয়েছে নানা তালবাহানায়।

এই আইনজীবী বলেন, "আপিল দায়ের হলে সেটি নিষ্পত্তিতে কত সময় ব্যয় হবে– এটি বলা বেশ মুশকিল। ফেমাস এন্টারপ্রাইজ আইন মেনেই বিমা করেছিল। বিমার প্রিমিয়ামও নিয়মিত দিয়েছে। এখন নানা অজুহাতে ক্ষতিপূরণের টাকা দিচ্ছে না মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স।"

বিমা খাতের এই মামলাটি দেশের আদালতগুলোতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা বিপুল সংখ্যক বিমা বিরোধের বাস্তব চিত্রকেই তুলে ধরে।

সুপ্রিম কোর্টের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হাইকোর্টে অগ্নি, ঝুঁকি এবং নৌ-বিমা দাবি সংক্রান্ত মোট ৭১৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিপূরণের দাবিতে গ্রাহকদের করা মামলা এবং বিমা দাবি আটকানোর লক্ষ্যে বিমা কোম্পানিগুলোর করা রিট।

এই মামলাগুলোর মধ্যে গ্রাহকরা করেছেন ২৫৬টি আর দাবি আদায় ঠেকাতে বিভিন্ন বিমা কোম্পানি দায়ের করেছে ৪৫৮টি মামলা। এসব মামলার সাথে গ্রাহকদের প্রায় ৩ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার বিমা দাবি জড়িত।

এসব মামলার একটি বড় অংশই বছরের পর বছর ধরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে ১৩৯টি মামলা ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে এবং ৩২১টি মামলা ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাইকোর্টে ঝুলে আছে। এছাড়া ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন রয়েছে ১৪৬টি মামলা এবং ৫ বছরের কম সময় ধরে আটকে আছে ৩১২টি মামলা।

অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ১৪৫টি আপিল। এসব আপিলের সাথে জড়িত প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকার বিমা দাবি, যার মধ্যে কোনো কোনো মামলা ৪০ বছরেরও বেশি পুরনো।

চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষা

সুইডেনে উন্নতমানের বাঁশ রপ্তানির একটি চালানের নিরাপত্তার জন্য চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মুহাম্মদ মহসীন খান ১৯৭৯ সালে সাধারণ বীমা করপোরেশনে ১১ লাখ টাকার দুই বছর মেয়াদী একটি বিমা পলিসি নেন।

১৯৮০ সালের মাঝামাঝি সময়ে রপ্তানি প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য বাঁশের চালানটি জনতা ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে একটি গুদামে রাখা হয়েছিল। ওই বছরের ৫ ও ৬ জুন প্রবল ঝড় ও বন্যায় গুদামটি প্লাবিত হয়ে বাঁশের পুরো চালানটি নষ্ট হয়ে যায়। মহসীন খান ১১ লাখ টাকার বিমা দাবি জমা দেন। বিমা কোম্পানি ক্ষয়ক্ষতি জরিপ করলেও অর্থ পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানায়, যার ফলে ওই বছরের শেষের দিকে তিনি চট্টগ্রামের একটি আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলা করা হলে বিমা কোম্পানির আবেদনের ভিত্তিতে ১৯৮১ সালে আদালত বিষয়টি সালিশি বোর্ডে পাঠান। সালিশি বোর্ড মহসীন খানের পক্ষে অর্জিত সুদসহ পুরো বিমা দাবি পরিশোধের রায় দেয়। সাধারণ বীমা করপোরেশন ১৯৮২ সালে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে, তবে হাইকোর্টও সালিশি বোর্ডের রায় বহাল রেখে সুদে-আসলে টাকা পরিশোধের আদেশ দেন।

এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিমা কোম্পানিটি আপিল বিভাগে আপিল করে। ১৯৮৮ সালে দেশের সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন, একইসাথে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চক্রবৃদ্ধি সুদসহ মোট পাওনা হিসাব করে চট্টগ্রামের আদালতে জমা দেওয়ার জন্য জনতা ব্যাংককে নির্দেশ দেন।

ঘটনার প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও মো. মহসীন খান জানান, তিনি আজও একটি টাকাও পাননি। "আমার বয়স প্রায় ৮০ বছর। আদালতে দৌড়াদৌড়ি করার মতো শক্তি আর শরীরে নেই। টাকা পাওয়ার আশা আমি বহু আগেই ছেড়ে দিয়েছি।"

কীভাবে আইনি ফাঁদে আটকে যাচ্ছে বিমা দাবি

ব্যাংক কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ ইমরান আহমেদ ভুঁইয়া বলেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) গঠিত হয় ২০১১ সালে। বিমা সংক্রান্ত কোনো দাবি নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে— পলিসির গ্রাহকরা এই সংস্থায় অভিযোগ করতে পারেন। সংস্থাটির আরবিট্রেশন বোর্ড সেটি নিষ্পত্তি করে রায় দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা যায় এবং হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করা যায়। এই প্রক্রিয়া ১০/১৫ বছরের আগে সম্পন্ন হয় না। "এমনকি আপিল বিভাগ গ্রাহকের পক্ষে রায় দিলেও বিমা কোম্পানিগুলো রায় বাস্তবায়নে নানা টালবাহানা করে বিলম্ব ঘটায়।"

তিনি বলেন, "অনেক সময় কোম্পানিগুলো কিছু অংশ পরিশোধ করে বাকিটা আর দেয় না। আবার অনেক ব্যবসায়ী দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার সময়, অর্থ ব্যয় এবং ব্যবসার ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে এক পর্যায়ে মামলা পরিচালনার হাল ছেড়ে দেন।" 

আইডিআরএ গঠনের আগে বিমা-সংক্রান্ত বিরোধ নিম্ন আদালতে দায়ের করা হতো এবং আদালত সেগুলো নিষ্পত্তির জন্য সাধারণত সালিশি বোর্ডে পাঠাতেন। তিনি বলেন, সেসব মামলার একটি বড় অংশই কয়েক দশক ধরে ঝুলে ছিল, যার মধ্যে কোনো কোনো মামলা ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে।

ইমরান আহমেদ জানান, উৎপাদন, বাণিজ্য এবং আমদানি-রপ্তানি কাজে নিয়োজিত ব্যবসাগুলোর জন্য ঝুঁকি বিমা, অগ্নি বীমা, আকস্মিক দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও চুরির বিরুদ্ধে বিমা করা বাধ্যতামূলক। ব্যাংক থেকেও ঋণগ্রহীতাদের জন্য অগ্নি বা ঝুঁকি বিমা গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকে।

একইভাবে, সমুদ্র বা আকাশপথে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নৌ বা কার্গো বিমা করা বাধ্যতামূলক। "হাতে গোনা কয়েকটি বিমা কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই নিয়মিত গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রিমিয়াম আদায় করে, কিন্তু যখন ক্ষয়ক্ষতি ঘটে তখন তারা দাবি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়," বলেন ইমরান।

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী জানান, তাদের মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলো সাধারণত প্রতিষ্ঠিত বিমা কোম্পানির সাথে কাজ করে, তাই তাদের এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বিমা খাত নিয়ে নানা অভিযোগ খুব সাধারণ বিষয়। বিমা কোম্পানিগুলো প্রায়শই ন্যায্য দাবি এড়ানোর চেষ্টা করে, আবার অন্যদিকে কিছু পলিসিগ্রহীতাও— প্রকৃত ক্ষতির চেয়ে অতিরিক্ত সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এই দুই ধরনের প্রবণতাই পুরো খাতের ওপর আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, "বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দেশি-বিদেশি ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে— বিমা খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের এমন একটি সুস্থ বিমা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন— যেখানে বিমাকারীরা তাদের বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে মেনে চলবে আর গ্রাহকরাও বিমাকে আর্থিক লাভের উপায় না ভেবে কেবল ক্ষতিপূরণের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করবে।"

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা বিনিয়োগকারীদের বিশেষ করে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগকে (এফডিআই) নিরুৎসাহিত করে, তা মামলার প্রকৃতি যাই হোক না কেন। "বিশ্বব্যাংকের 'ইজ অব ডুইং বিজনেস' মূল্যায়নে বারবার বাংলাদেশে বিরোধ নিষ্পত্তির দীর্ঘ সময়ের বিষয়টি উঠে এসেছে," উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবশ্যই বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত করার বাস্তবসম্মত উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

কর্পোরেট ও বিমা আইন বিশেষজ্ঞ মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র ও প্রমাণাদি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে বিমা কোম্পানিকে দাবি নিষ্পত্তি করতে হবে অথবা তা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, উপযুক্ত কারণ ছাড়া কোনো বিমা কোম্পানি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত বিমা দাবি নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আইনিভাবে তাদের প্রচলিত ব্যাংক সুদের চেয়ে বাড়তি হারে সুদ যোগ করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

"কিন্তু, বাস্তব চিত্রটি একদম এর বিপরীত," বলেন তিনি। "বিলম্বে সুদ দেওয়ার ক্ষতিপূরণ তো দূরের কথা, অনেকে মূল টাকাই উদ্ধার করতে পারেন না। আইডিআরএ না কার্যকর তদারকি চালায়, না আইন বারবার লঙ্ঘনকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে।"

বিমা কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুরোপুরি আইডিআরএ-র, বলেন তিনি। "তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে তারা নিজেদের একটি কার্যকর ও স্বাধীন তদারকি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে পলিসি হোল্ডারদের।"

মুস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, দেশের অধিকাংশ বিমা প্রতিষ্ঠান প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যারা প্রায়শই গ্রাহকদের প্রতি তাদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন। "দুর্বল তদারকির কারণে তাদের কদাচিৎ জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয়। হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি দাবি মেনে চললেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই তা করে না, যা গ্রাহকদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে বাধ্য করে," যোগ করেন তিনি।

আইডিআরএ যা বলছে

নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন টিবিএস'কে বলেন, অনেক সময় জরিপকারীদের (সার্ভেয়ার) মাধ্যমেই বিলম্বের সূত্রপাত ঘটে। অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার পর ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে তারা কয়েক মাস সময় নিয়ে নেন।

"এমনকি সার্ভে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরও বিমা কোম্পানিগুলো নানা কারণ দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করে বা দাবি প্রত্যাখ্যান করে। এরকম অভিযোগ আইডিআরএ-র আরবিট্রেশন বোর্ডের কাছে আসলে, সেটি নিষ্পত্তি হতে খুব বেশি সময় ব্যয় হয় না। কিন্তু পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে তাদের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং মামলাগুলো বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে। ফলে গ্রাহকেরা দ্রুততম সময়ে ক্ষতিপূরণ পান না," বলেন তিনি।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, "আদালতের ওপর আমাদের কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে আদালতের এই বিলম্ব কীভাবে কমিয়ে আনা যায়—সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এছাড়াও লাইফ ও নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি। সে জন্য বীমা কোম্পানিগুলোর সম্পদ অ্যাসেস করা, বাকি পড়া বিমা দাবিগুলো দ্রুত গ্রাহকদের পরিশোধের জন্য আমরা এখন নানা পদক্ষেপ নিচ্ছি।"

 

Related Topics

টপ নিউজ

বিমা দাবি / আইডিআরএ / আদালত / বাংলাদেশ

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষোপণাস্ত্র হমলার পর বিধ্বস্ত বিমানের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে দমকলকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
    রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা: পাইলটসহ তিনজন নিহত, ৩৩০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল
  • সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন। কোলাজ: টিবিএস
    কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় সিএনজি অটোরিকশা চালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার
  • গত তিন মাসে সরকারি ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবায় প্রায় ৬০০ টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। ছবি: মেহেদী হাসান
    চিঠির দিন শেষ, ডাক বিভাগেই এখন স্বল্প খরচে পাঠানো যাচ্ছে ঘরের আসবাব: ৩ মাসে পরিবহন করেছে ৬০০ টন পণ্য
  • প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
    সিলেটে টিকিটের সঙ্গে এনআইডি না মিললে ট্রেনে ভ্রমণ বন্ধ, ১২ অক্টোবর থেকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ ডিসির
  • মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। ছবি: রয়টার্স
    ‘আম্বানিই কি ভারতের আসল বস?’: কিছু অতিধনীর বিরুদ্ধে ভারতে স্টারলিংকের লাইসেন্স আটকে রাখার অভিযোগ মাস্কের
  • ছবি: ডেনিস হানসেন
    সেশেলসের দ্বীপে ১ লাখ ৮০ হাজার দৈত্যাকার কচ্ছপের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

Related News

  • ট্রাম্পের সেই ভাইরাল স্যুট কি বাংলাদেশে তৈরি? 
  • গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে সব আলোচনা যৌথ নদী কমিশনের অধীনেই: ভারত
  • ভারতে রপ্তানি বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ
  • সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় বাংলাদেশের নিন্দা
  • বাংলাদেশ-নেপালের মতো ‘নৈরাজ্য’ সৃষ্টির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

Most Read

1
রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষোপণাস্ত্র হমলার পর বিধ্বস্ত বিমানের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে দমকলকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা: পাইলটসহ তিনজন নিহত, ৩৩০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল

2
সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন। কোলাজ: টিবিএস
বাংলাদেশ

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় সিএনজি অটোরিকশা চালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

3
গত তিন মাসে সরকারি ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবায় প্রায় ৬০০ টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। ছবি: মেহেদী হাসান
ফিচার

চিঠির দিন শেষ, ডাক বিভাগেই এখন স্বল্প খরচে পাঠানো যাচ্ছে ঘরের আসবাব: ৩ মাসে পরিবহন করেছে ৬০০ টন পণ্য

4
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

সিলেটে টিকিটের সঙ্গে এনআইডি না মিললে ট্রেনে ভ্রমণ বন্ধ, ১২ অক্টোবর থেকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ ডিসির

5
মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

‘আম্বানিই কি ভারতের আসল বস?’: কিছু অতিধনীর বিরুদ্ধে ভারতে স্টারলিংকের লাইসেন্স আটকে রাখার অভিযোগ মাস্কের

6
ছবি: ডেনিস হানসেন
আন্তর্জাতিক

সেশেলসের দ্বীপে ১ লাখ ৮০ হাজার দৈত্যাকার কচ্ছপের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net