করতোয়া-ফুলজোড় নদীর সুরক্ষায় গণশুনানি: দখল ও দূষণ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগের দাবি
করতোয়া ও ফুলজোড় নদীর দখল ও দূষণ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয়রা।
বুধবার বগুড়ার এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে নদী দুটির সুরক্ষায় করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত এক গণশুনানিতে এ দাবি জানানো হয়। এতে নদীপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, মৎস্যচাষী, কৃষক, পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
গণশুনানিতে বক্তারা নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ, দূষণ বন্ধ, শিল্পকারখানার বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত এবং বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানান।
'নিজেরা করি'র সমন্বয়ক ও এএলআরডির চেয়ারম্যান খুশী কবিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তর বগুড়ার সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান হকসহ অনেকে।
গণশুনানির শুরুতে করতোয়া ও ফুলজোড় নদীর দূষণ, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
মূল প্রবন্ধে এএলআরডির কর্মকর্তা সানজিদা খান রিপা বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে করতোয়া ও ফুলজোড় নদী দখল ও দূষণের শিকার হয়েছে। শুরুতে গৃহস্থালি বর্জ্য এবং পরে শিল্পবর্জ্য ও অবৈধ দখলের কারণে নদীর পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে এসআর কেমিক্যালস ও মজুমদার এগ্রো প্রোডাক্টসের শিল্পবর্জ্যে নদীর পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার চারটি স্থানে সরেজমিন পরিদর্শনেও দূষণের একই চিত্র পাওয়া গেছে।
বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, করতোয়া নদী পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে। তবে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে খুলশীর স্লুইস গেট অপসারণের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, শিল্পকারখানা চালু থাকলেও সব সময় বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) সচল রাখতে হবে। এ জন্য নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি একটি পৃথক টাস্কফোর্স গঠন প্রয়োজন।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন বলেন, নদী দূষণ রোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে খুশী কবির বলেন, নদী দখল ও দূষণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগে করতোয়া ও ফুলজোড় নদী রক্ষা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
