এয়ারবাস কেনার আগ্রহ দেখাল সরকার, বিমানের মিশ্র বহরের পরিকল্পনায় সহযোগিতার আশ্বাস ইউরোপীয় দূতদের
টেকসই ও মিশ্র বহর গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সরকার। সরকারের এই মিশ্র বহর গড়ার উদ্যোগে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর কূটনীতিকরা।
গতকাল (১৫ জুলাই) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর আলোকপাত করা হয়। আলোচনায় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনাকালে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই বহর গড়ে তুলতে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কিনতে আগ্রহী সরকার। অন্যদিকে ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত এই উড়োজাহাজ ক্রয়ে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এয়ারবাসের সংশোধিত প্রস্তাব
চলতি বছরের গোড়ার দিকে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কয়েক বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইউরোপীয় মহাকাশযান ও উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস তাদের আগের প্রস্তাব কমিয়ে ১০টি উড়োজাহাজ বিক্রির সংশোধিত প্রস্তাব বিমানের কাছে জমা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই নতুন এই আলোচনা হলো।
এয়ারবাস ও বিমানের কর্মকর্তারা বলেন, কোম্পানিটি সম্প্রতি বিমানের টেকনো-ফাইন্যান্স কমিটিতে একটি নতুন প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ ও ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি জেট।
গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তির আওতায় বিমান ১৪টি উড়োজাহাজ কিনবে—যার মধ্যে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও চারটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ। এরপরই এয়ারবাস তাদের প্রস্তাব সংশোধন করে।
খাত-সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বিমানবহর সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার কৌশল হিসেবে এয়ারবাস তাদের মূল প্রস্তাবের আকার কমিয়ে এনেছে।
আগের প্রস্তাবে ১৪টি উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল ১০টি এ৩৫০ ওয়াইড-বডি জেট ও চারটি এ৩২০নিও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ।
এ৩২০নিও পরিবারের বর্ধিত সংস্করণ হলো এ৩২১নিও উড়োজাহাজ। এর যাত্রী ধারণক্ষমতা ১৮০ থেকে ২২০ জনের মতো।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই বিমান সংস্থার আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান ও কার্গো হাবে রূপান্তরিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা পর্যালোচনা করছে সরকার। এই সময়েই এয়ারবাসের এই নতুন প্রস্তাব এলো।
ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের কূটনীতিকরা ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বিবেচনা করতে বাংলাদেশকে উৎসাহিত করে আসছেন।
২০২৩ সালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং মালবাহী সংস্করণসহ ১০টি এয়ারবাস এ৩৫০ উড়োজাহাজ ক্রয়ের সম্ভাবনার বিষয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করার পর এই ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানের আলোচনা গতি পায়।
বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টিই বোয়িংয়ের তৈরি।
