বিদেশে উচ্চশিক্ষার নামে সাড়ে ১৫ কোটি টাকা প্রতারণা: কনসালট্যান্সির মালিকসহ গ্রেপ্তার ৩
বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জাস্ট থট এডুকেশন কনসালট্যান্টের মালিক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ওরফে মো. মতিউর রহমানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, মতিউর জাস্ট থট এডুকেশন কনসালট্যান্টসহ পাঁচটি ভিসা প্রসেসিং এজেন্সি পরিচালনা করতেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৩৫০ জনের কাছ থেকে আনুমানিক ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন মতিউরের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন তানিয়া ও শ্যালক সাইদুর রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ১৪ নম্বর সড়কের বাসা থেকে স্ত্রী ও শ্যালকসহ মতিউরকে গ্রেপ্তার করে ভাটারা থানা পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের বাড্ডা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জানান, মতিউর রাত আড়াইটার একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার ব্যাগও গুছানো ছিল। দেশ ছাড়ার আগেই খবর পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মতিউর 'জাস্ট থট এডুকেশন কনসালট্যান্ট', 'গো ভিসা', 'ভিসা গাইড', 'গ্লোবাল ভিসা স্টেশন' ও 'ইমিগ্রেশন এক্সপার্ট' নামে পাঁচটি ভিসা প্রসেসিং এজেন্সি পরিচালনা করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও তাদের ভিসা বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়নি।
গ্রেপ্তারের সময় মতিউরের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, ৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং ৫০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পাঁচটি এজেন্সির মাধ্যমে প্রায় ৩৫০ ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আনুমানিক ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মতিউরের বিরুদ্ধে।
তিনি জানান, মতিউরের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় একটি এবং উত্তরা পূর্ব থানায় দুটি প্রতারণার মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, তিনজনের রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য ১৬ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।
এদিকে মতিউরের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সকাল থেকে ভুক্তভোগীরা ভাটারা থানার সামনে জড়ো হন। তারা মতিউরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরতের দাবি জানান। পরে তারা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনেও অবস্থান নেন।
বিক্ষোভের সময় এক শিক্ষার্থী পরিবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে তার পরিবার জমি বন্ধক রেখে এবং স্বর্ণালংকার বিক্রি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিল।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, টাকা নেওয়ার পর পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি কার্যালয় বন্ধ করে গা-ঢাকা দেয়। এতে ওই শিক্ষার্থী ও তার পরিবার চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
