বিএসবি গ্লোবালের মালিক খায়রুল বাশারের ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের আদেশ
প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের স্বত্ত্বাধিকারী মো. খায়রুল বাশার বাহারের প্রায় ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
তিনি জানান, বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের স্বত্ত্বাধিকারী মো. খায়রুল বাশার বাহার ও তার সহযোগীরা আমেরিকা, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার চটকদার বিজ্ঞাপন দেখিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়ায় খায়রুল বাশারের বিরুদ্ধে গত বছরের ৪ মে গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় গত বছরের ১৪ জুলাই ধানমন্ডি থানা এলাকা থেকে খায়রুল বাশারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
তিনি আরো জানান, মামলাটির প্রাথমিক তদন্তে জনা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে প্রথম স্ত্রীর নামে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় ১টি ফ্ল্যাট, দ্বিতীয় স্ত্রী কানিজ ফাতেমা প্রকাশ ডোনার নামে শেলটেক বিথীকা প্রকল্পে ১টি ফ্ল্যাট ও নিজ নামে রাজাবাজার এলাকায় ২টি ফ্ল্যাট এবং রাজধানীর আজিজ সড়কে জি+৭তলা ও জি+৬তলা বিশিষ্ট ২টি বাড়ি কিনেছেন। এছাড়াও তার নিজ নামে ও প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৩ হাজার ৪৮২.৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন, যার দলিল মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত তার নামে থাকা ওই স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন।
সিআইডির এই কর্মকর্তা আরো জানান, খায়রুল বাশার বাহার নিজেকে একজন শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও এর আড়ালে তিনি বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সহযোগিতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং তার নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান করা হচ্ছে।
