নির্দিষ্ট মামলা না থাকলে আবুল বারকাতকে দ্রুত মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের
নির্দিষ্ট কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না থাকলে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে দ্রুত মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদেশের কপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্তি দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে আটক রাখা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
আবুল বারকাতের মেয়ে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অরনি বারকাতের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বুধবার (১০ জুন) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশিষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বারকাতের আইনজীবীরা।
গত মঙ্গলবার দায়ের করা ওই রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অধ্যাপক আবুল বারকাতকে হয়রানি, অপদস্থ ও নিপীড়নের উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী, বেআইনি ও দুরভিসন্ধিমূলকভাবে আটকে রাখা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান খান ও সৈয়দ মামুন মাহবুব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মোমতাজ ও মো. জাসিদুল ইসলাম (জনি)।
শুনানি শেষে আইনজীবী মামুন মাহবুব বলেন, 'আদালত রুলসহ তাৎক্ষণিক মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে—অধ্যাপক আবুল বারকাতকে কেন আদালতের সামনে উপস্থিত করা হবে না, যাতে আদালত সন্তুষ্ট হতে পারে যে তাকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়নি।'
স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া রিট আবেদনকারীর খরচে বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে হাইকোর্টের আদেশের কপি দ্রুত প্রতিপক্ষের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করতে বলেছেন আদালত।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালীন এননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আবুল বারকাতসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই বছরের ১০ জুলাই ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সম্প্রতি দুদকের ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। গত ৭ জুন আপিল বিভাগ তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে সেই জামিন বহাল রাখেন। তবে জামিন পেলেও কারাগার থেকে তার মুক্তি মেলেনি। আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব জানান, জামিন পাওয়ার দিনই অধ্যাপক বারকাতকে ঢাকার নিউ মার্কেট থানার একটি পুরোনো বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর প্রেক্ষিতেই তার মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
